
মালয়েশিয়ানদের বিয়ে করে দোকান খোলা: ব্যবসার কৌশল নিয়ে সতর্কবার্তা
মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের মধ্যে স্থানীয় নাগরিককে বিয়ে করার প্রবণতা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির দেশীয় বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের (কেপিডিএন) উপমন্ত্রী দাতুক ড. ফুজিয়া সাল্লেহ।
দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামার সূত্রে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেওয়ান নেগারায় (সেনেট) উপমন্ত্রী বলেছেন, ১৯৫৬ সালের ব্যবসা নিবন্ধন আইন (আইন ১৯৭) অনুযায়ী একক মালিকানা ও অংশীদারিত্বে ব্যবসা নিবন্ধনের অনুমতি শুধুমাত্র মালয়েশিয়ার নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য সীমাবদ্ধ। ফলে অনেক বিদেশির তাদের স্থানীয় জীবনসঙ্গীর নামে দোকান বা ব্যবসা নিবন্ধন করছেন, যা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘কিছু বিদেশি স্থানীয় স্বামী বা স্ত্রীর নামে বৈধভাবে ব্যবসা নিবন্ধন করলেও বাস্তবে তারা নিজেরাই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এ কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অভিযোগ আমরা নিয়মিতভাবে পাচ্ছি।’
উপমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত মালয়েশিয়া কোম্পানি কমিশন (এসএসএম)-এর এমন কোনো নীতি নেই, যা বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহিত নাগরিকদের ব্যবসা নিবন্ধন থেকে বিরত রাখে। তবে দেশটির জনসাধারণের কাছ থেকে প্রস্তাব এসেছে যে, বিদেশিদের ক্ষেত্রে বিবাহের পর নির্দিষ্ট সময় যেমন, পাঁচ বছর পর ব্যবসা নিবন্ধনের অনুমতি দেয়া যেতে পারে।
ড. ফুজিয়া আরো উল্লেখ করেছেন যে, কেপিডিএন-এর একার পক্ষে এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা সম্ভব নয়, কারণ মন্ত্রণালয়ের গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই। তাই দেশটির অভিবাসন বিভাগ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, ‘বিদেশি ব্যবসায়ীরা দোকান চালাতে স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করতে পারে। কিন্তু অনেক সময় অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের কাউন্টারে বিদেশিরাই বসে আছেন, যা আইনত অনুমোদিত নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জাবাতান ইমিগ্রেশন মালয়েশিয়াকে হস্তক্ষেপের জন্য ডাকতে হয়।’
উপমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তা মালয়েশিয়ার ব্যবসায়িক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বিদেশিদের এমন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন না।



