
যুক্তরাষ্ট্র
মেইল ব্যালটের নতুন ব্যবস্থা নিয়ে USPS-এ উদ্বেগ
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ও ভোটারদের ব্যালট পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন
শাহ্ জে. চৌধুরী :
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের মেইল-ইন ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইউএস পোস্টাল সার্ভিস (USPS)-এর এক হুইসেলব্লোয়ার অভিযোগ করেছেন, মেইল ব্যালট ব্যবস্থায় প্রস্তাবিত নতুন প্রযুক্তিগত পরিবর্তন দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এর পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
হুইসেলব্লোয়ারের দাবি, নতুন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিলে যোগ্য ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের সময় কোনো অসামঞ্জস্য দেখা দিলে একটি ব্যাচের বিপুলসংখ্যক ব্যালট আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
নতুন ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন হচ্ছে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফেডারেল নির্বাচনে মেইল ব্যালট বিতরণের প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রাজ্যগুলোকে মেইল ব্যালট পাওয়ার যোগ্য ভোটারদের তথ্য ডাক বিভাগের কাছে সরবরাহ করতে হবে। USPS সেই তথ্যের সঙ্গে নিজস্ব রেকর্ড মিলিয়ে ব্যালট বিতরণের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।
এছাড়া ব্যালটের খাম, বারকোড এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও নতুন মানদণ্ড প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ অনুযায়ী, এত বড় পরিবর্তন বাস্তবায়নের আগে ব্যবস্থাটির পর্যাপ্ত পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করা হয়নি।
তথ্যগত ত্রুটিতে ব্যালট আটকে যাওয়ার আশঙ্কা
হুইসেলব্লোয়ারের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হলো, ভোটারদের তথ্য USPS-এর নির্ধারিত তথ্যের সঙ্গে সঠিকভাবে না মিললে একটি সম্পূর্ণ ব্যাচের ব্যালট বিতরণ আটকে যেতে পারে।
এর ফলে একই ব্যাচের বৈধ ও যোগ্য ভোটাররাও সময়মতো তাদের ব্যালট নাও পেতে পারেন।
নির্বাচনের সময় এই ধরনের বিলম্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ অনেক অঙ্গরাজ্যে মেইল ব্যালট ফেরত পাঠানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে।
সিনেটরের ব্যাখ্যা দাবি
হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ প্রকাশের পর সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি USPS-এর কাছে জানতে চেয়েছেন, নতুন ব্যবস্থাটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, এর কী ধরনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত সমস্যার ক্ষেত্রে ভোটারদের ব্যালট বিতরণ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।
ব্লুমেনথালের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া ব্যবস্থা চালু করা হলে নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান
মেইল ব্যালট ব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রশাসনের বক্তব্য, ফেডারেল নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং মেইল-ইন ভোটিংয়ে সম্ভাব্য অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য ভোটারদের তথ্য আরও কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রশাসনের মতে, কে ফেডারেল নির্বাচনের মেইল ব্যালট পাওয়ার যোগ্য, তা নিশ্চিত করার জন্য একটি আরও নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত ব্যবস্থা দরকার।
ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ
অন্যদিকে ভোটাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নতুন ও জটিল যাচাই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
তাদের আশঙ্কা, প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক কোনো ভুলের কারণে বৈধ ভোটাররা যেন ব্যালট পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হন।
বিশেষ করে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, সামরিক সদস্য, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিক এবং নির্বাচনের দিন নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকতে না পারা ভোটারদের জন্য মেইল ব্যালট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের মতে, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটারদের সহজ ও নির্ভরযোগ্যভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ
মেইল ব্যালট সংক্রান্ত প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও ভোটাধিকার সংগঠন নতুন ফেডারেল নিয়মের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। কিছু ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে প্রশাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফলে নভেম্বরের নির্বাচনের আগে কোন নিয়ম কার্যকর থাকবে এবং USPS শেষ পর্যন্ত কী ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করবে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।
নির্বাচনের আগে বড় প্রস্তুতি
২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রস্তুতির সময় তত কমে আসছে।
ভোটার তালিকা, ব্যালট প্রস্তুতি, ডাক বিভাগের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং ফেডারেল নির্দেশনার মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। এই প্রক্রিয়ার যেকোনো পর্যায়ে বড় ধরনের ত্রুটি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বিপুলসংখ্যক ভোটারের ওপর।
নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার—দুইয়ের সমন্বয়ই চ্যালেঞ্জ
USPS-এর নতুন মেইল ব্যালট ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে সামনে এনেছে—নির্বাচনের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে এবং একই সঙ্গে যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার কীভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কঠোর যাচাই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, অপর্যাপ্তভাবে পরীক্ষিত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নির্বাচনের সময় বিভ্রান্তি ও বিলম্ব তৈরি করতে পারে।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মেইল ব্যালটের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং ভোটারদের প্রবেশাধিকার এখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।



