যুক্তরাষ্ট্র

‘ইসলাম কোনো ধর্ম নয়’—সিডনি পাওয়েলের মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বিতর্ক

X-এ ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে কঠোর মন্তব্য; ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

শাহ্ জে. চৌধুরী :

ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ধারাবাহিক বিতর্কিত মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাবেক ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ আইনজীবী সিডনি পাওয়েল।

পাওয়েল @SidneyPowell1 নামে X অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। প্ল্যাটফর্মে তিনি নিজেকে “Attorney, Author, Gladiator” হিসেবে পরিচয় দেন এবং তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ লাখ অনুসারী রয়েছে বলে দেখা যায়।

তার X অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক পোস্টে পাওয়েল লিখেছেন, “It’s always been a cult. It always will be. Islam is not a religion.” অর্থাৎ, তিনি ইসলামকে ‘কাল্ট’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছেন, “ইসলাম কোনো ধর্ম নয়।” পোস্টটিতে রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট অ্যামি মেক ও RAIR Foundation-কে ট্যাগ করা হয়।

আরেকটি পোস্টে পাওয়েল ইসলামকে “a sick political cult of barbaric sadistic seditionists who seek to destroy America” হিসেবে বর্ণনা করেন—অর্থাৎ তিনি ইসলামকে এমন একটি রাজনৈতিক ‘কাল্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যার অনুসারীরা আমেরিকা ধ্বংস করতে চায় বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়েলের নামে আরও একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “There should be NO accommodations for Muslims”—অর্থাৎ মুসলিমদের জন্য কোনো ধরনের ধর্মীয় ‘অ্যাকোমোডেশন’ থাকা উচিত নয়। একই উদ্ধৃতিতে মুসলিমদের “seditionists” আখ্যা দিয়ে তাদের বহিষ্কারের দাবি করা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণভাবে, এই দীর্ঘ উদ্ধৃতিটির পূর্ণাঙ্গ মূল উৎস সরাসরি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে পাওয়েলের নিশ্চিত বক্তব্য হিসেবে নয়, বরং তার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

First Amendment কী বলে

পাওয়েলের মন্তব্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

মার্কিন সংবিধানের First Amendment ধর্ম পালনের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করে এবং Congress-কে কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা কিংবা ধর্মের স্বাধীন চর্চায় বাধা সৃষ্টি করে এমন আইন প্রণয়ন থেকে বিরত রাখে।

ফলে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো ধর্ম সম্পর্কে কঠোর মতামত প্রকাশ করতে পারলেও, সেই রাজনৈতিক বক্তব্য নিজে থেকে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে না।

নির্বাচনী ষড়যন্ত্র মামলায়ও বিতর্কিত ভূমিকা

সিডনি পাওয়েল ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার আইনি প্রচেষ্টার অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

২০২৩ সালে জর্জিয়ার নির্বাচনী হস্তক্ষেপ মামলায় তিনি ছয়টি misdemeanor conspiracy অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। plea agreement-এর আওতায় তাকে ছয় বছরের probation দেওয়া হয় এবং জর্জিয়ার জনগণের কাছে লিখিত ক্ষমা চাওয়াসহ বিভিন্ন শর্তে সম্মত হতে হয়।

বিতর্কের কেন্দ্রে ধর্ম, রাজনীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

পাওয়েলের সাম্প্রতিক মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মুসলিম আমেরিকানদের অধিকার এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের সামাজিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

বিশেষ করে একটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় সম্প্রদায়কে একই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা চরিত্রের অধিকারী হিসেবে উপস্থাপন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে এই ঘটনাটি আবারও সামনে এনেছে—যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন সুরক্ষিত করে, তেমনি ধর্ম পালনের স্বাধীনতাকেও সাংবিধানিক সুরক্ষা দেয়।

তবে এই বিতর্কে তথ্য ও দাবির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট রাখা জরুরি। পাওয়েলের নিজের X অ্যাকাউন্টে ইসলামকে ‘ধর্ম নয়’ এবং ‘কাল্ট’ হিসেবে বর্ণনা করার বক্তব্য যাচাইযোগ্য। অন্যদিকে মুসলিমদের ‘বহিষ্কার’ এবং কোনো ‘অ্যাকোমোডেশন’ না দেওয়ার দীর্ঘ উদ্ধৃতিটি তার নামে প্রচারিত হলেও এর মূল উৎস স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় সেটিকে সতর্কতার সঙ্গে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension