
যুক্তরাষ্ট্রের চীনের বিকল্প মেক্সিকো
বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের বিকল্প খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। আর সে বিকল্প হতে এগিয়ে এসেছে মেক্সিকো। দেশটি ফের শীর্ষ মার্কিন অংশীদার হিসেবে নিজ অবস্থান পোক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ডালাসের জ্যেষ্ঠ ব্যবসায়িক অর্থনীতিবিদ লুইস টরেস।
চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দুই দেশের মধ্যে ২৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলার মূল্যমানের পণ্য আদান-প্রদান হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানি ও রপ্তানির ১৫.৪ শতাংশ এসেছে মেক্সিকোর কাছ থেকে। হিসাবে কানাডা ও চীনের চেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের বেশি বাণিজ্য হয়েছে মেক্সিকোর সঙ্গে। কানাডার সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য হয়েছে ১৫.২ শতাংশ আর চীনের সঙ্গে হয়েছে ১২ শতাংশ।
মহামারির রেশ ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছে বিশ্ব। এরই মধ্যে চীনকে হটিয়ে শীর্ষস্থান নিল মেক্সিকো। আগামীতে বিশ্ব অর্থনীতি যে নতুন পথে হাঁটতে চলেছে, সেটিরই যেন ইঙ্গিত দিল বিষয়টি। টরেসের মতে, চীনের পণ্যের ওপর ট্যারিফ বসানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এ পরিবর্তনের বীজ মহামারির আগেই বপন হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ‘নেয়ারশোরিং’-এর দিকে চেপে আসছে, সেটিও ফুটে উঠেছে গোটা বিষয়টির মধ্য দিয়ে। কোনো দেশ যখন জরুরি পণ্যের সরবরাহ চেইন ভৌগোলিক এবং রাজনৈতিকভাবে নিজের কাছে নিয়ে আসে, তখন তাকে নেয়ারশোরিং বলে।
মহামারির সময় নেয়ারশোরিংয়ের বিষয়টি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পেছনে মূলত ভূমিকা রেখেছে দুটি বিষয়। সেটির একটি হলো প্রশান্ত পার করার খরচ বেড়ে যাওয়া আর দ্বিতীয়টি হলো দ্রুত সরবরাহ পাওয়ার জন্য ক্রেতার চাহিদা বৃদ্ধি। শুধু মার্কিন সরকার নয়, দেশটির নানাবিধ প্রতিষ্ঠানও নিজেদের কাছেপিঠে সরে আসছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের পিটার এস গুডম্যান লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্বেগ বৃদ্ধি এবং সম্পর্ক তপ্ত হওয়ার কারণে ওয়ালমার্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের চাহিদা পূরণে ঘরের কাছের উৎস খুঁজছে।
মুরে হিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইকেল বার্নস বলছেন, এটি বিশ্বায়নের বিপরীত নয়। এটি বিশ্বায়নের পরবর্তী ধাপ, যা আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের দিকে চলে দিচ্ছে।
তবে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের এখনও পুরোপুরি অবনতি হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে। জুনে চীন সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন এবং চলতি মাসে দেশটি সফরে যান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার



