আন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন মার্কিন নাগরিক, কে এই স্টিফেন হাবার্ড

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বুধবার মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে আটক অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

৭৪ বছর বয়সী স্টিফেন হাবার্ড একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক।

নিউইয়র্ক টাইমসের উদ্ধৃত সামরিক নথি অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বিগ র‍্যাপিডস এলাকায় বেড়ে ওঠেন। পরে মার্কিন বিমানবাহিনী ও ন্যাশনাল গার্ডে দায়িত্ব পালন করেন। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি প্রায় ২৫ বছর জাপানে ইংরেজি পড়িয়েছেন।

এরপর সাইপ্রাসে চলে যান।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইজিউমে এক ইউক্রেনীয় সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস শুরু করেন বলে জানান তার বোন প্যাট্রিসিয়া হাবার্ড ফক্স। ২০২৪ সালে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফক্স জানান, হাবার্ড মাসে প্রায় ৩০০ ডলারের পেনশনের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করতেন। স্থানীয়দের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল সীমিত।

ভাইবোনের মধ্যে সর্বশেষ কথা হয়েছিল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে।

কিভাবে আটক হয়েছিলেন হাবার্ড?

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। দুই মাস পর রুশ বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইজিউম দখল করে। ইউক্রেনীয় বাহিনী ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শহরটি পুনর্দখল করলেও, এর আগেই হাবার্ড রাশিয়ার হেফাজতে চলে যান।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ২০২২ সালের এপ্রিলে হাবার্ডকে আটক করা হয়েছিল।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ইউক্রেনের একটি সামরিক চৌকিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে তার আটকের প্রকৃত পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
হাবার্ডের বোন প্যাট্রিসিয়া হাবার্ড ফক্স জানান, ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি তার ভাইকে শনাক্ত করেন। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছিল। অন্য একটি ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে হাত বাঁধা অবস্থায় স্যান্ডেল দিয়ে মারতে দেখা যায়। তবে ভিডিও দুটি কখন ও কোথায় ধারণ করা হয়েছিল, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি।

কেন কারাগারে পাঠানো হয়েছিল হাবার্ডকে?

২০২৪ সালের অক্টোবরে মস্কোর একটি আদালত রুদ্ধদ্বার বিচারে মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁকে ছয় বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রুশ কৌঁসুলিদের দাবি, হাবার্ড ইউক্রেনের একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ইউনিটে যোগ দিয়েছিলেন। তাকে প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ দেওয়া হয়েছিল এবং প্রতি মাসে এক হাজার ডলার পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। তবে হাবার্ডের বোন প্যাট্রিসিয়া হাবার্ড ফক্স তার কথিত স্বীকারোক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, হাবার্ড রাশিয়াপন্থী ছিলেন এবং তার পক্ষে অস্ত্র হাতে নেওয়ার সম্ভাবনা কম।

২০২৫ সালের জুনে হাবার্ডের মার্কিন আইনজীবী মার্টিন ডি লুকা রয়টার্সকে জানান, হাবার্ড তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি কোনো যুদ্ধে অংশ নেননি বা কোনো সামরিক ইউনিটে যোগ দেননি। হাবার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, রুশ সেনারা তাকে সরাসরি তার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল।

হাবার্ডের বর্তমান অবস্থা কী?

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার স্টিফেন হাবার্ডকে রাশিয়ায় অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। এর ফলে তার মুক্তির জন্য মার্কিন সরকারের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, রাশিয়া হাবার্ডের সঙ্গে দেখা করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস দিতে অস্বীকার করেছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, বিচারের আগে হাবার্ডকে রাশিয়ার অন্তত পাঁচটি আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে হাবার্ডের আইনি দল জানতে পারে, তাকে মস্কোর পূর্বে অবস্থিত মর্দোভিয়া অঞ্চলের একটি কারাগারে রাখা হয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension