প্রবাসযুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে যথাযথ মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপিত

রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে একাত্তরে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কালজয়ী ভাষণের ওপর আলোচনা এবং সেই চেতনায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন-অভিযাত্রায় একিভ’ত থাকার সংকল্প ব্যক্ত করা হয়।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনের সমাবেশে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেছেন, ৭ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ দিন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইতিহাসের একমাত্র ভাষণ যার মাধ্যমে একটা জাতি স্বাধীন রাষ্ট ্রহিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যেও অমূল্য প্রামাণ্য দলিল হিসেবে তাদেও ওয়ার্ল্ড মেমোরি রেজিস্ট্রাওে অন্তর্ভূক্ত কওে স্বীকিৃতি দিয়েছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে ইউনেস্কো’র ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের উপর একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্বাগত ভাষণ দেন স্থায়ী মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও উপস্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো: আরিফুল ইসলাম। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

শুরুতে জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিওটি প্রদর্শন করা হয়। এরপর শুরু হয় আলোচনা পর্ব। জাতির পিতার ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ একটি জাতিকে কীভাবে বজ্রকঠিন ঐক্যের পতাকাতলে সমবেত করে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণে উজ্জ্বীবিত করেছিল তা উঠে আসে আলোচকগণের বক্তব্যে। আলোচকগণ এই ভাষণের প্রেক্ষাপট, বিষয়বস্তু, সুদূর প্রসারী প্রভাবের উপরও আলোকপাত করেন। জাতির পিতার এই ভাষণে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য একজন সুযোগ্য রাষ্ট্রনায়কের সুচিন্তিত কৌশলের সবটুকুই প্রতিভাত হয়েছে মর্মে মন্তব্য করেন বক্তাগণ। ৭ মার্চের ভাষণ যাতে সর্বদা দীপ্যমান থাকে এবং জাতির পিতার সম্মোহনী দরাজ কন্ঠ যাতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অনুরণিত হয় সেজন্য নতুন প্রজন্মকে ভাষণটি বার বার শোনানোর আহ্বান জানান আলোচকগণ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতার দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে।এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মিশনের কাউন্সিলর মো: তৌফিকুর রহমান।

এদিকে, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালনের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা, ঢাকা হতে প্রেরিত রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা তাঁর বক্তব্যে জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এর ভাষণের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণের প্রতিটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ এবং এর আবেদন কালোত্তীর্ণ। এ সময় বিশেষ মোনাজাতে বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension