
রাশিয়ায় করোনায় মৃত্যুর রেকর্ড
কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে রাশিয়ায় টানা পঞ্চম দিনের মতো রেকর্ডসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে রাশিয়া জানায় গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৭৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ দিন দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক ৩৭ হাজার ৬৭৮ জন নতুন রোগীও শনাক্ত হয়েছে।
ওদিকে, সংক্রমণ রোধে কর্মস্থলগুলো বন্ধ রাখার ও রাজধানী মস্কোতে লকডাউন দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশব্যাপী কর্মস্থল বন্ধ রাখার ও ২৮ অক্টোবর থেকে রাজধানী মস্কোতে আংশিক লকডাউন জারি করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ সময় শুধু ওষুধ ও বিপণিবিতানের মতো জরুরি দোকান খোলা থাকবে বলে জানা গেছে।
কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রথম টিকাগুলোর একটি উৎপাদন করেছে রাশিয়া। তারপরেও রাশিয়া তার জনসংখ্যার মাত্র প্রায় এক তৃতীয়াংশকে টিকা দিতে পেরেছে। ইউরোপের মধ্যে যা সর্বনিম্ন হারের একটি।
রাশিয়ায় করোনা রোগীর মোট সংখ্যা ৮০ লাখ ৪১ হাজার ৫৮১ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ২৯ হাজার ৫২৮ জনের। তবে পরিসংখ্যান সংস্থা রোস্ট্যাট বলছে, গত আগস্টের মধ্যে অন্তত ৪ লাখ মানুষ মারা গেছে করোনায়।
আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বের মধ্যে পঞ্চম স্থানে আছে দেশটি। মৃত্যুর সংখ্যায় ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকের রেকর্ডের চেয়ে বর্তমানে রাশিয়ায় দৈনিক মৃত্যুর হার ৩৩ শতাংশ বেশি। গত মাসে সংক্রমণ সংখ্যা ৭০ শতাংশ বেড়েছে।
দেশটির ১৪ কোটি ৬ লাখ মানুষের কেবল এক-তৃতীয়াংশকে টিকার আওতার আনা হয়েছে। মহামারি বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বেড়ে গেছে এবং স্বাস্থ্য সেবার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
টিকা নিতে নাগরিকদের মধ্যে অনীহা দেখা দেওয়ায় রুশদের ৩০ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মস্থলে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বহু এলাকায় জিম, থিয়েটার বন্ধসহ অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
পুতিন এই সপ্তাহে রাশিয়ার উচ্চ মৃত্যুর হারের জন্য ‘দুর্ভাগ্যবশত’ কম টিকা নেওয়ার হারকে দায়ী করেছেন এবং রাশিয়ানদেরকে আরও ‘দায়িত্বশীল’ আচরণ করার এবং টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
রাশিয়ার টিকা স্পুটনিক ভি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পায় নি।



