
রাহুলের চোখে ইতালির চশমা পরা: অমিত শাহ
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশ সহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হল শনিবার৷ আর এই দিনই মধ্যপ্রদেশে নির্বাচনী প্রচারে এসে গান্ধী পরিবার ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ সরাসরি রাহুল গান্ধীকে ছুড়ে দিলেন প্রশ্ন৷ স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে অমিতের প্রশ্ন, মোদীর কাছে কাজের হিসাব চাওয়ার আগে গান্ধী পরিবারের চার প্রজন্মের কাজের হিসাব দিক রাহুল৷ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে কংগ্রেস সভাপতিতে তাঁর খোঁচা, তিনি তো চোখে ইতালির চশমা পড়ে আছেন৷
শনিবার ভোটের মুখে মধ্যপ্রদেশের মালওয়া-নিমাদ অঞ্চলে জনসংযোগ বাড়াতে ‘মাস কনট্যাক্ট ক্যাম্পেন’ অর্থাৎ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি৷ পরে দশেরা ময়দানে এসে গান্ধী পরিবার ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন অমিত শাহ৷ বলেন, ‘‘রাহুল গান্ধী মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করছেন তাঁর সরকার গত সাড়ে চার বছরে কী কাজ করেছে? সরকার কী কাজ করেছে তার জবাবদিহি কংগ্রেসকে দেব না৷ কিন্তু দেশের মানুষের কাছে ওদের জবাবদিহি করতে হবে৷ গান্ধী পরিবারের চার প্রজন্ম কী কাজ করেছে তা আগে জনগণকে জানানো হোক৷’’
পরেই অমিত শাহ জানান, ক্ষমতায় থাকাকালীন কংগ্রেস যে কাজ করতে পারেনি মোদী সরকার সেই কাজ করে দেখিয়েছে৷ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন ‘এক পদ এক পেনশন নীতি’র কথা৷ দাবি করেন, এনডিএ আমলে কৃষকরা ফসলের ন্যায দাম পাচ্ছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেস ৭০ বছর ক্ষমতায় থেকেও ‘এক পদ এক পেনশন নীতি’ চালু করতে পারেনি৷ কিন্তু মোদী সরকার সেই প্রকল্প চালু করে৷ অবসরপ্রাপ্ত সেনারা এখন এর সুফল ভোগ করছে৷ কংগ্রেস কৃষকদের ফসলের ন্যায দাম কখনও দেয়নি৷ কিন্তু মোদী সরকার রবি ও খরিফ ফসলের সহায়ক মূল্য দেড়গুণ বাড়িয়েছে৷ গত ৭০ বছর ধরে যে দাবি করে আসছিল কৃষকরা৷’’
তিনি অভিযোগ করেন কংগ্রেস শুধু ভোট ব্যাংক রাজনীতি করে দেশের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে৷ বলেন, ‘‘৯০ এর দশকে পাকিস্তানিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসে সেনাদের মাথা কেটে নিয়ে যেত৷ কিন্তু মোদী বীর সেনাদের সীমান্তে পাঠিয়ে সেই সব ঘটনার বদলা নিয়েছেন৷ রাহুল শুধু সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের গুরুত্ব বুঝতে পারে না৷ কারণ তাঁর চোখে ইতালির চশমা পড়া৷’’
মধ্যপ্রদেশের এই জনসভা থেকে এনআরসি নিয়ে রাহুলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন অমিত শাহ৷ কংগ্রেস ছাড়াও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি৷



