
শিকাগোতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের অনুমোদন — ICE অভিযানে সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
নিউজ ডেস্ক: শিকাগোতে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় সহিংসতার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ৩০০ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের অনুমোদন দেন। ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিৎসকারের আপত্তি সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে, যা রাজ্য ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত
শুক্রবার সন্ধ্যায় শিকাগোর ব্রাইটন পার্ক এলাকায় অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টরা একটি অভিযানে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।
এক পর্যায়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যেখানে এক নারী আহত হন।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের কর্মকর্তারা আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছুড়েছিলেন—যখন বিক্ষোভকারীরা গাড়ি দিয়ে তাদের ঘিরে ফেলে এবং আক্রমণের চেষ্টা করে।
আহত নারী পরে নিজেই হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসার পর গ্রেপ্তার হন। হাসপাতাল জানায়, তিনি স্থিতিশীল আছেন।
রাজ্য বনাম ফেডারেল টানাপোড়েন
গভর্নর প্রিৎসকার এক বিবৃতিতে বলেন, “ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, বরং এটি রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা।”
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো “ফেডারেল অফিসারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা”।
আইন অনুযায়ী, যদি এই সৈন্যরা “ফেডারলাইজড” হয়, তারা Title 10 আইনের আওতায় কাজ করবে—যা অনুযায়ী তারা সরাসরি আইন প্রয়োগে অংশ নিতে পারবে না, বরং নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়তা করবে।
বিক্ষোভকারীদের প্রতিক্রিয়া
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, ICE কর্মকর্তারা রাস্তার ভিড়ের দিকে স্টান গ্রেনেড ও কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহার করেছেন।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা কখনও ভাবিনি এমন দৃশ্য আমাদের রাস্তায় দেখতে হবে। চারপাশে শুধু ভয় আর আতঙ্ক।”
জাতীয় প্রেক্ষাপট
শিকাগো ঘটনার একদিন আগে পোর্টল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই ধরনের ফেডারেল পদক্ষেপ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করছে এবং নাগরিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
উল্লেখ্য, ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ উভয়ই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে।



