
‘শি-মোদির একটি বৈঠক সব বদলে দেবে না’
কিছুদিন আগেও সীমান্ত নিয়ে বিরোধ ছিল। প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও চীনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্কের চাপে। রোববার দুই শেষের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে পারস্পরিক সহযোগিতার নানা ক্ষেত্র নিয়ে।
ভারতের মতো চীনের ওপরও আছে মার্কিন শুল্কের বোঝা। এমন প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রসিডেন্ট শি জিনপিং নরেন্দ্র মোদিকে বলেছেন, জনবহুল ও সভ্য দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বৈঠকই কি ভারত-চীনের আগের সম্পর্ক বদলে দেবে?
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-চীনের মধ্যে এখনো বেশকিছু বিষয় অসীমাংসিত আছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ। ২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। যা গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত। তিব্বত ও দালাই লামার মতো ইস্যুও আছে। এ ছাড়া, সম্প্রতি ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের বাঁধ নির্মাণ করতে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। কিন্তু এসব দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তেমন ভালো যাচ্ছে না।
এশিয়া ডিকোডেট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও অর্থনীতিবিদ প্রিয়াঙ্কা কিশোর বলছেন, বেইজিং ১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন জনগোষ্ঠীর একটি দেশে ব্যবসার সুযোগকে স্বাগত জানাবে। তারা ভারতে সরাসরি বা বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রবেশ করতে চায়। তবে সম্পর্কের যেহেতু জটিলতা আছে তাই একটি বৈঠক সবকিছু একেবারে বদলে দেবে না। চীন-ভারতকে সম্পর্ক উন্নত করার পথে এখনো অনেক দূর যেতে হবে।
তবে মোদির চীন সফর কিছুটা বৈরিতা দূর করতে পারে বলে মনে করছেন প্রিয়াঙ্কা। বলেন, ভারত এখন ওয়াশিংটনের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে পারবে। সেটি হলো, তাদের হাতে বিকল্প আছে।
কিছু পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত এখনও চীনের ওপর নির্ভরশীল। কারণ প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ সেখান থেকেই আসে। তাই ভারত কম আমদানি শুল্কের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের কাছে থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো একটি সরবরাহ ব্যবস্থার সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু কঠোর শিল্পনীতির কারণে ভারত এতদিন তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
দুই দেশের সম্ভাব্য সুসস্পর্কের দিকটি আঁচ করেই সম্প্রতি চাথাম হাউসের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, সরলভাবে বললে এই দুই দেশের সম্পর্কে যা ঘটে, তা বিশ্বের বাকি অংশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে প্রতিরোধক শক্তি হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু ভারত তা হতে চায়নি। তাই মোদির এই চীন সফর একটি মোড় ঘোরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।



