
‘ককরোজ’ বিদ্রোহে জেগে উঠছে ভারতের জেন-জি
তরুণদের ব্যঙ্গ এখন প্রতিবাদের অস্ত্র, প্রশ্নের মুখে মোদি সরকারের জবাবদিহি, পরীক্ষা কেলেঙ্কারি, বেকারত্ব ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় রাস্তায় নতুন প্রজন্ম
হোসনেআরা চৌধুরী, জুলাই ২৩:
ভারতের রাজনীতিতে নতুন এক প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে হাজির হয়েছে দেশটির জেনারেশন-জি (Gen Z)। নিজেদের পরিচয় হিসেবে ব্যঙ্গাত্মকভাবে গ্রহণ করা “ককরোজ” (Cockroach) শব্দটি এখন পরিণত হয়েছে ক্ষোভ, প্রতিরোধ ও পরিবর্তনের প্রতীকে।
পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস, কর্মসংস্থানের সংকট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে তরুণদের এই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ—সবখানেই নতুন প্রজন্ম তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
অপমানের শব্দ থেকে প্রতিবাদের প্রতীক
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, “ককরোজ” শব্দটি যে অর্থে অবহেলা বা তুচ্ছতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল, তার বিরুদ্ধেই তারা এই শব্দকে নিজেদের শক্তির প্রতীকে পরিণত করেছে।
তাদের দাবি—
“যাদের উপেক্ষা করা হয়েছে, তারাই এখন প্রশ্ন তুলছে।”
তরুণরা ব্যঙ্গ, সৃজনশীল পোস্টার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচারণা এবং রাস্তায় বিক্ষোভের মাধ্যমে তাদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
শিক্ষা ও চাকরি নিয়ে ক্ষোভের বিস্ফোরণ
ভারতের কোটি কোটি তরুণ সরকারি চাকরি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং অনিয়মের অভিযোগে তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
* পরীক্ষাব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
* প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি
* চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি
* তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের স্পষ্ট পরিকল্পনা
মোদি সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এই তরুণ আন্দোলন নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিরোধী দলগুলো তরুণদের এই ক্ষোভকে সরকারের নীতি ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থার সমালোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন প্রজন্মের নতুন রাজনীতি
বিশ্লেষকদের মতে, “ককরোজ” আন্দোলন শুধু একটি নির্দিষ্ট দাবি ঘিরে নয়; এটি ভারতের তরুণ সমাজের বৃহত্তর উদ্বেগের প্রতিফলন।
আজকের জেন-জি প্রজন্ম শুধু ভোটার নয়—তারা প্রশ্নকারী, প্রতিবাদকারী এবং পরিবর্তনের দাবিদার।
একটি ব্যঙ্গাত্মক শব্দকে নিজেদের পরিচয়ে পরিণত করে তারা যে বার্তা দিচ্ছে, তা হলো—
“যাদের নীরব ভাবা হয়েছিল, তারাই এখন সবচেয়ে জোরে কথা বলছে।”
ভারতের রাজনীতিতে এই ‘ককরোজ’ প্রতিবাদের ঢেউ কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



