ভারত

ভারত ‘ককরোচদের’ ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ: ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আজ বুধবার হাইকোর্ট কেন্দ্র সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওগ্রাফি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক রেকর্ড সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।

দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলোকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না। তাই ব্যক্তিগতভাবে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ না দিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক জবাব তলব করা জরুরি।

আদালত জানিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের পক্ষ থেকে কাউন্টার অ্যাফিডেভিট বা জবাব দাখিল করতে হবে এবং এর দুই সপ্তাহের মধ্যে আবেদনকারীরা রিজোন্ডার বা পাল্টা জবাব জমা দিতে পারবেন। তদুপরি, পুলিশের প্রমিত পরিচালনা পদ্ধতি (এসওপি) অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল সিসিটিভি ফুটেজ ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ সুরক্ষিত রাখতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় (নিট বা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট) অনিয়মের অভিযোগে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ ও ২১ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টি এই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ডাক দেয়। ওই কর্মসূচিতে ছাত্র ও কর্মীদের মিছিলে দিল্লি পুলিশ মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে—এমন অভিযোগে দুটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) দায়ের করা হয়েছিল।

শুনানিকালে কেন্দ্র ও পুলিশের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, যাদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের ব্যক্তিগতভাবে থানায় বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে এফআইআর দায়ের করা উচিত। কিন্তু আদালত এই যুক্তি নাকচ করে বলেন, ‘যদি এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতো, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু এটি কোনো সাধারণ বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।’ আদালত আরও উল্লেখ করেন, জমায়েত বেআইনি হলে তা দমনে আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ অনুচিত।

আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এন হরিহরণ আদালতে জানান, বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েতের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছিলেন। কিন্তু পুলিশ সেখানে ‘সর্বোচ্চ মাত্রার বর্বরতা’ চালিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যন্তর মন্তরে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও ২০ জুলাই যখন তাঁরা সংসদের দিকে মার্চ করার চেষ্টা করেন, তখন পুলিশ কোনো পূর্বঘোষণা বা সতর্কবার্তা ছাড়াই লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস, ইলেকট্রিক ব্যাটন এবং শারীরিক হামলা চালায়।

এই সংঘর্ষে ৯০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন এবং নারী প্রতিবাদকারীরা পুলিশের হাতে হেনস্তার শিকার হন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া বহু পুলিশ সদস্যের গায়ে নেমট্যাগ বা ইউনিফর্ম ছিল না, যা তাদের চিহ্নিত করা কঠিন করে তুলেছে।

সরকারের বক্তব্য
আবেদনের বিরোধিতা করে কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) এস ভি রাজু জানান, বিক্ষোভটি সহিংস রূপ নিয়েছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা গেছে এবং সে সময় এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ ছিল। তিনি দাবি করেন, এই পিটিশনগুলো জনসমক্ষে আসার উদ্দেশে বা প্রচার পাওয়ার জন্য করা হয়েছে।

সোনম ওয়াংচুকের অপসারণ সংক্রান্ত পিটিশন খারিজ
একই দিনে সোনম ওয়াংচুককে আমরণ অনশনরত অবস্থায় দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত চেয়ে করা একটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত জানান, এই বিষয়টি ইতিপূর্বেই সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অঙ্গমোর দায়ের করা মামলার মাধ্যমে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই নতুন করে এই পিটিশন শোনার কোনো প্রয়োজন নেই।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension