

রূপসী বাংলা ডেস্ক: অন্য মৌসুমের চেয়ে শীতকালটা একটু আলাদা। আর এই সময়টা শিশুদের জন্য একটু কষ্টকর। শীতে প্রকৃতিতে যে পরিবর্তন আসে তার সাথে মানিয়ে নিতে শিশুর কষ্ট হয়। তাই এই সময় বাবা – মায়ের বেশি সতর্ক থাকতে হবে আর শিশুদের প্রতি নিতে হয় কিছু বাড়তি যত্ন। কারণ শীতে শিশুরা শুধু ঠাণ্ডা লাগলেই অসুস্থ হয় না বরং বায়ুবাহিত বিভিন্ন রোগ জীবাণু,যা সহজেই ছড়িয়ে পড়ে শিশুদের আক্রমণ করে। শিশুদের ত্বক খুবই স্পর্শকাতর হওয়াতে শীতকালে শিশুর নরম ত্বক জলীয় বাষ্প হারিয়ে হয়ে উঠে শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ।শীতে শিশুর নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি খুবই কমন একটি সমস্যা। আর কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া যায় –

শিশুর পোশাক: শীত থেকে শিশুদের রক্ষার অন্যতম উপায় শীতের পোশাক। এই সময় শিশুকে প্রয়োজনমত এবং শীতের প্রকটতার উপর নির্ভর করে শীতের পোশাক পরাতে হবে। যাতে শিশুর ত্বক জলীয় বাষ্প কম হারায় এবং ত্বক সুস্থ থাকে। ভারী কাপড় পরানোর আগে হালকা সুতি কাপড় পরিয়ে নিতে হবে, যাতে প্রয়োজন হলে বাড়তি গরম কাপড় খুলে ফেলা যায়। খুব বেশি গরম কাপড় বা ভারী কম্বল ব্যবহারে শিশু ঘেমে গিয়ে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। ছোটদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের খসখসে বা অমসৃণ পোশাক না পরিয়ে বরং সুতির পোশাক পরানো উচিত। এটি শিশুর ত্বকের জন্য যেমন ভালো তেমনি আরামও পাবে।

শিশুর গোসল: গোসল করার সময়টা শিশুদের কাছে খুবই আনন্দের। প্রত্যেক শিশু পানির সংস্পর্শে এসে পানি দিয়ে খেলা ও গোসল দুটোই সমান ভাবে উপভোগ করতে চায়। অনেক বাবা – মা শীতকালে শিশুকে প্রতিদিন গোসল করাতে চায় না শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যাবে এই ভয়ে। কিন্তু ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। শীতে শিশুকে ম্যাসেজ করার কিছুক্ষণ পর গোসল করানো হলে শিশুর ঠাণ্ডা কম লাগে। আর শিশুর শরীরের এই তেল ও ময়লা ধুয়ে ফেলতে গোসল করানো জরুরি। তাই প্রতিদিন শিশুকে হালকা গরম পানিতে গোসল করাতে হবে। গোসল শেষে দ্রুত শরীর ও মাথা মুছে ফেলতে হবে। পরে কাপড় পরিয়ে হালকা রোদে শিশুকে কিছুক্ষণ রাখলে শিশু বেশ আরাম পাবে।

শিশুর ত্বকোপযোগী সাবান: গোসলের সময় শিশুর উপযোগী সাবান ব্যবহার করতে হবে কারণ শিশুর ত্বক বড়দের তুলনায় ৫ গুণ পাতলা। বড়দের সাবানে বেশি ক্ষার থাকে যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর। এটি ব্যবহারে শিশুর ত্বকে রাশ, অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। সব সময় বেবি সোপ ব্যবহার করতে হবে।

শীতে শিশুর প্রসাধনী: শিশুদের ত্বক সাধারণত সংবেদনশীল ও নরম। আর এ কারণে শীতে খুব সহজেই শিশুর ত্বক জলীয় বাষ্প হারিয়ে হয়ে উঠে শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ।শীতকালে শিশুর ত্বক ম্যাসেজ করা অত্যন্ত জরুরি। গোসলের পরে বা আগে শিশুর উপযোগী অলিভ অয়েল বা বেবি লোশন ব্যবহার করতে হবে। শীত বুঝে পাতলা বা গরম কাপড় পরাতে হবে। দু’ একদিন পরপর শিশুকে ভালো মানের বেবি শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুতে হবে। এতে মাথার ত্বক সুরক্ষা পাবে এবং খুশকি ও ফুসকুড়ি থেকে রক্ষা পাবে।

বেশি শোষণ ক্ষমতার ডায়াপার ব্যবহার: বাচ্চাদের ডায়াপার পরানো খুবই সচরাচর আর সাধারণ একটি ব্যাপার। সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল ভালো মানের ডায়াপার পছন্দ করা। সস্তা এবং নিম্ন মানের ডায়াপার শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ডায়াপার বেশি আঁটসাঁট করে পরানো ঠিক না। ৬ ঘন্টার মধ্যেই ডায়াপার পরিবর্তন করে দিতে হবে। ডায়াপার বেশি ভিজে গেলে বা লিক করলে শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য অবশ্যই উচ্চ শোষণ ক্ষমতার ও লিক প্রুফ ডায়াপার ব্যবহার করতে হবে।

শিশুর খাদ্য: ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি মুরগির স্যুপ, সবজির স্যুপ, ফলের রস ও নরম করে খিচুড়ি (সবজি, মাছ বা মাংস দিয়ে রান্না করা) দিতে হবে। শীতকালে প্রচুর শাক – সবজি পাওয়া যায়। বয়স ভেদে শিশুর খাদ্য তালিকায় ফলমূল, শাক – সবজি ও সুষম খাদ্য রাখতে হবে। মিষ্টি আলু, ডাল বাধাকপি, ব্রকোলি, ফুলকপি ইত্যাদি খুবই পুষ্টিকর, যা দেহে রোগ – প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সেই সাথে ভিটামিন সি জাতীয় ফল, যেমন – লেবু, মাল্টা, কমলা, আমলকী ইত্যাদি শিশুর খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
* শিশুকে জন্মের পর থেকে সবগুলো টিকা সময় মত দিতে হবে।
* রাতে শিশুকে প্রয়োজনমত শীত বস্ত্র পরাতে হবে।
* শিশুকে সকালের নরম রোদে খেলতে দিতে হবে। সকালের রোদ শিশুর ভিটামিন – ডি এর জোগান দিবে।
* শীতকালে যেহেতু চারিদিকে ধুলোবালির পরিমাণ বেড়ে যায়, তাই শিশুদের ঘরের বাইরে নেয়ার সময় মুখে মাস্ক পরিয়ে নিতে হবে।
* প্রতিদিন শিশুকে ১ চা চামচ মধু খাওয়া। এতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে ও সর্দি – কাশি বা ঠাণ্ডায় কম ভুগবে (শিশুর বয়স ৬ মাসের পর থেকে এটি প্রযোজ্য)।
* শিশু একটানা তিন দিনের বেশি অসুস্থ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।



