বাংলাদেশরাজনীতি

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি রূপরেখার খসড়া

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট:  গতকাল সন্ধ্যায় মতিঝিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের চেম্বারে সাব-কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাব-কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের প্রস্তুতি হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংবিধানের মধ্যে থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি রূপরেখার খসড়া তৈরি করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের সাব-কমিটির বৈঠকে এ খসড়া তৈরি করা হয়। আজ সোমবার বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা নির্বাচন সংক্রান্ত সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ১২৩(৩)(খ) অনুচ্ছেদে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার ওপর জোর দেন তারা। এ অনুচ্ছেদের আলোকে মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনও কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন করা যায়। এসব মতামতের ভিত্তিতে একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করা হয়। বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা ও তার জামিন নিয়ে আলোচনা করেন তারা। এসব আইনজ্ঞের সঙ্গে আবারও বৈঠক করা হতে পারে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. বোরহান উদ্দিন খান, ড. আসিফ নজরুল, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাহেদ উর রহমান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও মুকাব্বির খান এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সুপ্রিম কোর্টের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী সমকালকে বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মূলত সুনির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়  নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার জামিন এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রশ্নে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ও রয়েছে। প্রত্যেকেই তাদের প্রাথমিক মতামত দিয়েছেন। আলোচনায় যত দ্রুত সম্ভব লিখিত প্রস্তাব ও সুপারিশ তৈরি করে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আবারও বৈঠক হবে।

বৈঠকের আগে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্‌দীন মালিক বলেন, সংবিধানে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার ব্যবস্থা স্পষ্ট করে লেখা আছে। তিনি জানান, সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথা সংবিধানের অন্তত ১০ জায়গায় লেখা আছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন সংবিধান ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই করা সম্ভব। সেই আইনি পথ বের করার জন্যই তারা এ আলোচনা করছেন।

শাহ্‌দীন মালিক বলেন, বিশ্বের সব জায়গায় সাংবিধানিক প্রথা হলো, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করা। বাংলাদেশেও বেশিরভাগ নির্বাচনই সংসদ ভেঙে দিয়ে হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আইন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাওয়া এ বিষয়গুলো পরবর্তী সংলাপে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরবে। আগামী সংলাপে শাহ্‌দীন মালিকের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান। এ বৈঠকের সিদ্ধান্ত সংলাপে উপস্থাপন করা হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আইনজীবী হিসেবে এখানে সংবিধানে কী ব্যবস্থা আছে, সে ব্যাপারে আলোকপাত করছেন। রাজনীতিবিদরা কী করবেন, সেটা তাদের ব্যাপার।

এক প্রশ্নের উত্তরে শাহ্‌দীন মালিক বলেন, ‘সংবিধানে মুলতবি বা বিলুপ্ত লেখা নেই। সংবিধানে আছে সংসদ থাকবে অথবা সংসদ ভেঙে যাবে।’ সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করার কোনো প্রস্তাবনা আসতে পারে কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচন সংসদ বহাল রেখেই হয়েছিল। এভাবে নির্বাচন করলে অনেক অসুবিধা হয়। তাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয় না। এতে সরকার পক্ষ বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। এজন্য বিশ্বের সব জায়গায় সাংবিধানিক প্রথা হলো, সংসদ ভেঙে নির্বাচন করা।’

ঐক্যফ্রন্টের নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী সমকালকে বলেন, ‘এগুলো টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠক। এখানে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। আজও সে রকমটাই হয়েছে। আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করছি। আস্তে আস্তে আমাদের কর্মকাণ্ড পরিস্কার হবে। ‘

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension