
শুল্ক উত্তেজনাতেও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্ভব: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্ভব। ট্রাম্পের শুল্কনীতির মূল লক্ষ্যবস্তু চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালে একটি দুর্দান্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে এবং একটি নতুন চুক্তিও সম্ভব বলে বুধবার তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাস পূর্ণ হওয়ার পর ট্রাম্প মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী উভয়ের ওপরই ব্যাপক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। চীন, প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে লক্ষ্য করে তিনি শুল্ককে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে তিনি চীন থেকে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন। এছাড়া তিনি আমদানিকৃত সব গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। একইভাবে ফার্মাসিউটিক্যালস ও সেমিকন্ডাক্টর পণ্যের ওপরও অনুরূপ বা আরও বেশি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে তার। এভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন।
বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, আগামী কয়েক মাসে তার প্রশাসন কাঠের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছে।
প্রেসিডেন্ট প্রথমে কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানিকৃত সব পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে তা কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন এবং ১ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ান।
গত সপ্তাহে তিনি স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা ১২ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, আমদানিকৃত পণ্যের ওপর এই শুল্কের বোঝা বহন করে আমেরিকানরাই—বিদেশি রফতানিকারকরা নয়।
মার্কিন শুল্কের জবাবে বেইজিং কয়লা ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ১৫ শতাংশ এবং তেল ও কৃষি যন্ত্রপাতি ও যানবাহনের মতো অন্যান্য পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীনস্থ ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালিসিসের তথ্য অনুযায়ী, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত অর্জনকারী দেশ। ২০২৪ সালে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ২৯৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
মার্কিন মিত্র জাপান গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে, তারা স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম রফতানির ওপর ট্রাম্পের শুল্ক থেকে অব্যাহতি চেয়েছে এবং তাদের অটোমোবাইল শিল্পের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।
জাপানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে টোকিওর বাণিজ্য মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন এবং অব্যাহতির জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চালাবেন। কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, ১২ মার্চের আগেই ইয়োজি মুটো নতুন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকসহ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক সংক্রান্ত মন্তব্য এসেছে এমন সময়ে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য প্রধান বুধবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দৃঢ় ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাবে।



