প্রধান খবরবাংলাদেশরাজনীতি

সংবাদ সম্মেলনে কাদের জয় দলের কোনো পদে আসতে চান না

রূপসী বাংলা নিউজ ডেস্ক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের রাজনীতিতে আসা-না আসার সম্ভবনার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমনটি জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সজীব ওয়াজেদ জয়ের আসার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সেটা আমাদের পার্টির সভাপতি, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত। জয় তো আছেনই। আমি বার বারই নেত্রীকে বলে আসছি, যে জয়কে আপনি পরবর্তীকালের জন্য গ্রুমিং করার বিষয়টা, এটা নেত্রীর সিদ্ধান্তের ব্যাপার। জয়ের নিজেরও ইচ্ছার ব্যাপার। জয় যেভাবে আছেন সেভাবেই তিনি আপাতত থাকতে চান। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের কোন পদে, যেমন পীরগঞ্জে তাকে মনোনয় দেওয়ার জন্য সেখান থেকে অনেক দাবি ছিল, কিন্তু তিনি রাজি হননি। কাজেই জয়ের নিজের ইচ্ছারও এখানে ব্যাপার আছে। জয় যখন বাংলাদেশে আসবেন, আপনারা তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। জয়ের ইচ্ছার ব্যাপারও আছে এবং নেত্রীকে কোন কিছু বললে তিনি বলেন, জয় তো আসতে চায় না। এখনও তার আসার আগ্রহ নেই।’

আগামী সম্মেলনে সেখানে নতুন মুখ কারা আসছেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পুরনো মুখ, নতুন এটা ডিসাইট করার মালিক আমাদের সভাপতি, এটা আমাদের গঠনতন্ত্রী ক্ষমতা দেওয়া আছে। আমাদের নেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তিনি নির্ধারণ করবেন, কে আসবে দলে। আমাদের দলে শেখ হাসিনা ছাড়া আরও কেউ অপরিহার্য় ব্যক্তি নয়। আমি আপনাদের পরিস্কারভাবে বলতে চাই, আমরা কেউই অপরিহার্য নই।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দলের সাধারণ সম্পাদক পদেও নেত্রী যা ইচ্ছা করবেন সেটাই হবে। তিনি পরিবর্তন চাইলে, পরিবর্তন হবে। আমাদের এখানে কোন প্রতিযোগীতা নেই। হয়তো কারও কারও ইচ্ছা, আকাঙ্খা থাকতে পারে। সাধারণ সম্পাদক পদেও প্রার্থী থাকতে পারে। সেখানে কোন অসুবিধা নেই। আমি যদি মনে করি আমার প্রতিদ্বন্দী আর কেউ হতে পারবে না, এটা তো ঠিক না। এটা ডিসাইট করবেন নেত্রী, তবে প্রার্থী হওয়ার অধিকার সবার আছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কমিটির কলেবর এখন পর্য়ন্ত বাড়ানোর চিন্তা ভাবনা নেই। কমিটি ৮১ জনই থাকবে। আমাদের নেত্রী যেটা মনে করছেন। আপাতত কমিটিতে সংখ্যা বাড়ানোর কোন ইচ্ছে নেই। কোন পদই বাড়ার সম্ভাবনা নেই। আমাদের বর্তমান কমিটিতেই একটা সদস্য ও দুইজন সভাপতিমন্ডলীর সদস্যের পদ খালি আছে। সেগুলো এই মূহুর্তে পূরণ হবে না। সম্মেলনের মধ্য দিয়েই আমরা পুরো কমিটি করে ফেলবো, এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।’

বিএনপিসহ অনান্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকেই আমন্ত্রণ জানানো হবে। প্রতিবারই যাদের আমন্ত্রণ করি এবারও তাদের করবো। যারা জোটের অংশ তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। আমরা বিএনপিকেও দাওয়াত দেব। বিদেশ থেকে প্রতিনিধি যেহেতু মুজিব বর্ষে আসবে, সে জন্য জাতীয় সম্মেলনে আমরা তাদের দাওয়াত দিচ্ছি না। তবে আমরা এখানে কূটনৈতিকদের দাওয়াত দেব।’

উপজেলায় দলের নেতৃত্বে প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘উপজেলা পর্য়ায়ে আমরা একটা নির্দেশনা দিচ্ছি। গতকাল আমাদের নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, উপজেলা পর্য়ায়ে দেখা যাচ্ছে নিজস্ব নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্যরা সভাপতি পদপ্রার্থী হন, এটা নিরুৎসাহিত আমরা করছি। উপজেলা পর্য়ায়ে সংসদ সদস্যদের আমরা অনুরোধ করছি, তারা যেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে না এসে, ত্যাগী ও দুঃসময়ের নেতা-কর্মীদের একটা সুযোগ করে দেন। কারণ তাদেরও অধিকার আছে। তারা এমপিও হতে পারেনি, দলে নেতৃত্বও পাবে না, এটা তো হয় না।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension