জাকির হোসেন
একাত্তরের ১১ মার্চ। এই দিনে সারাদেশে চলে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন। স্বাধীনতাকামী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে বন্ধ হয়ে যায় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। এদিন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী টাঙ্গাইলে এক জনসভায় বলেন, সাত কোটি বাঙালির নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ পালন করুন। তার নির্দেশে স্বাধীনতার শপথে উজ্জীবিত বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে কখন যুদ্ধ শুরু হবে, সেই ক্ষণ-গণনাও শুরু হয়ে যায়। একই সঙ্গে দেশব্যাপী চলতে থাকে বিক্ষোভ ও সমাবেশ।
গুলিবর্ষণ ও দমন নিপীড়ন চালিয়ে শাসকগোষ্ঠী জনতার উত্তাল স্রোত থামাতে পারেনি। এইদিনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বলেন, চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কঠোর শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। তিনি অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতার জন্য জনসাধারণকে অভিনন্দন জানান। পাকিস্তান পিপলস্ পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো সমঝোতার জন্য এদিন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে তারবার্তা পাঠান। সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রাদেশিক ন্যাপ সভাপতি মোজাফফর আহমদ।
অন্যদিকে এয়ার মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) আজগর খান ঢাকা সফর শেষে পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে সেখানকার জনগণকে সতর্ক করে বলেন, অত্যন্ত দ্রুত সময়ের পট-পরিবর্তন হচ্ছে এবং এই সময় দেশকে বিচ্ছিন্নতার হাত থেকে বাঁচাতে হলে যথাসম্ভব ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, কেবল কুর্মিটোলার মার্শাল ল’ দফতরসমূহ ছাড়া বাংলার অন্য কোথাও তিনি পাকিস্তানি পতাকা দেখেন নি।
ছাত্র ইউনিয়ন এদিন বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করে একটি লিফলেট প্রচার করে। এতে শোষণমুক্ত স্বাধীন পূর্ববাংলা কায়েমের আন্দোলন আরো দুর্বার করে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

পরদিন ১২ মার্চ (শুক্রবার ) প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় এসব ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। এ দিন (১১ মার্চ, বৃহস্পতিবার) দৈনিক ইত্তেফাক ‘সাত কোটি বাঙালীর নেতা শেখ মুজিবের নির্দেশ পালন করুন’- মওলানা ভাসানী, ‘কুর্মিটোলা মার্শাল ল’ অফিস ছাড়া কোথাও পাকিস্তানী পতাকা দেখি নাই’- আসগর খান ‘ভুট্টোর প্রাণ কাদিতেছে তবু-’ শিরোনামে প্রধান খবর হিসেবে ৬ কলামে প্রকাশ করে। এছাড়া ইত্তেফাক ‘বরিশালে জেলের ২৪ জন কয়েদীর পলায়ন, কুমিল্লা জেল ভাঙার ব্যর্থ চেষ্টা : পুলিশের গুলীতে ৫ জন নিহত’, ‘গম ভর্তি জাহাজের গতি পরিবর্তন করিয়া করাচী যাত্রা’, ‘আওয়ামী লীগের নির্দেশ চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কঠোর শৃঙ্খলা রক্ষা করিতে হইবে: হরতালের ক্ষেত্রে ‘অব্যাহতির’ আওতা সম্প্রসারিত’ শিরোনামে ১১ মার্চের (বৃহস্পতিবার) কয়েকটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে।
আজাদ এদিন ‘ তাজউদ্দিন কর্ত্তৃক সংগ্রামে সাফল্য অর্জনকল্পে উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বান ’ শিরোনামে প্রধান খবর হিসেবে ৬ কলামে প্রকাশ করে। আজাদ-এ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত অন্যন্য সংবাদগুলোর শিরোনাম ছিল, ‘ব্যাংক ও অন্যান্য সংস্থার কার্য পরিচালনার আওতা সম্প্রসারণ’, ২০ জন কয়েদীর পলায়ন : গুলীবর্ষর্ণে ৫ ব্যক্তি নিহত’ ইত্যাদি।
আর সংবাদ এদিন ‘ সংগ্রামের সঙ্গে অর্থনীতিকে সক্রিয় রাখার আহ্বান’ শিরোনামে প্রধান খবর হিসেবে ৪ কলামে প্রকাশ করে। এছাড়াও সংবাদ এদিন ‘বিশ্ববাসীর প্রতি আবেদন: বাঙালীর মুক্তি সংগ্রাম সমর্থন করুন’, ‘অসহযোগ অব্যাহত’, ‘শেখ মুজিবের সহিত মোজাফফরের বৈঠক’, ‘মুজিব সকাশে জাতিসংঘ প্রতিনিধি’ শিরোনামে কয়েকটি খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। ৭১-এর ১২ মার্চ (শুক্রবার ) দৈনিক ইত্তেফাক ও সংবাদে -এ প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হল:
‘সাত কোটি বাঙালীর নেতা শেখ মুজিবের নির্দেশ পালন করুন’- মওলানা ভাসানী
টাঙ্গাইল ১১ই মার্চ-ন্যাপ প্রধান মওলানা ভাসানী গতকল্য এখানে বলেন, পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে কোনো রকম ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। তিনি সর্বস্তরের জনগণকে একত্রিত হইয়া লক্ষ্য অর্জনের জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম পরিচালনা করার আহ্বান জানান। বিন্দুবাসিনী হাইস্কুল ময়দানে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় ভাষণ দানকালে মওলানা ভাসানী বলেন, পূর্ব বাংলার জনগণ এখন তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হইয়াছে। বাঙালীর স্বার্থের প্রশ্নে আপোষ করার দিন চলিয়া গিয়াছে। শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সমর্থন দান করিয়া মওলানা ভাসানী সকলকে ৭ কোটি বাঙালীর নেতার নির্দেশ পালনের আহ্বান জানান। মওলানা সাহেব পূর্ব বাংলার কোনো বিষয় সম্পত্তি নষ্ট না করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করিয়া নিরস্ত্র জনগণকে হত্যা করার নিন্দা করেন। পিপিআই ( ইত্তেফাক: ১২ মার্চ শুক্রবার-১৯৭১)
মুজিব-মোজাফফর আলোচনা
স্টাফ রিপোর্টার: ওয়ালীপন্থী প্রাদেশিক ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ গতকাল (১১ মার্চ বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে শেষোক্তের ধানমণ্ডিস্থ বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন।
(ইত্তেফাক: ১২ মার্চ শুক্রবার-১৯৭১)
ছাত্র ইউনিয়নের কুচ কাওয়াজ
(নিজস্ব বার্তা পরিবেশক) গতকাল বৃহস্পতিবার (১১মার্চ) পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী বাহিনীর নিয়মিত কুচ কাওয়াজ তৃতীয় দিবস অতিবাহিত হয়। গতকাল (১১ মার্চ বৃহস্পতিবার) সকাল ৯ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আড়াই ঘন্টা ব্যাপী কুচ কাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচ কাওয়াজ অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন দলে বিভক্ত হইয়া ছাত্রছাত্রীগন কুচকাওয়াজ করে। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জনাব মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে শোষণ হীন মুক্ত বাংলা কায়েমের জন্য ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের যে কোনো ত্যাগ স্বীকারের সপথ গ্রহণ করান।
ছাত্র ইউনিয়নের বিবৃতি ও কর্মসূচি
(নিজস্ব বার্তা পরিবেশক) পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলী গতকাল (১১ মার্চ বৃহস্পতিবার) নিম্নোক্ত বিবৃতি ও কর্মসূচি ঘোষণা করিয়াছে। ‘পূর্ব বাংলার জনগণ সকল প্রকার শোষন মুক্ত স্বাধীন পূর্ব বাংলা কায়েমের আওয়াজ উঠাইয়াছে। এই দাবি আদায়ের জন্য আমাদের এক দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের জন্য দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে হইবে। স্বাধীন বাংলা কায়েমের সাথে সাথে জনাব শেখ মুজিব যে চারটি শর্ত পূরনের দাবি তুলিয়াছেন আশু লক্ষ্য হিসেবে তাহা আদায়ের জন্য আজ আমাদের মরনপণ সংগ্রামে ঝাপাইয়া পড়িতে হইবে এবং সরকারী বাহিনীর সকল প্রকার আক্রমনের মুখে জনগণের প্রতিরোধ লড়াই গড়িয়া তুলিয়া স্বাধীনতার সংগ্রামকে অগ্রসর করিয়া নিতে হইবে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ হইতে আমরা ঢাকা শহরে এবং সমগ্র প্রদেশের জন্য নিম্ন লিখিত নির্দেশ ও কর্মসূচি ঘোষণা করিতেছি।
ঢাকা শহরে প্রতিদিন সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ময়দানে জঙ্গী কর্মীবাহিনীর প্যারেড। ১২ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হইতে পথসভা ও ক্ষণ্ড মিছিলের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে প্রচার। ১৩ই মার্চ শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বায়তুল মোকাররম হইতে মশাল মিছিল। ১৪ মার্চ রবিবার বিকাল ৪টায় বায়তুল মোকাররমে জনসভা।
পূর্ব বাংলায় নিম্ন লিখিত কর্মসূচি ছাত্র ইউনিয়নের সকল শাখাকে অবশ্যই কার্যকরী করিতে হইবে। সর্বাত্মক রাজনৈতিক প্রচার, জনসাধারনের মধ্যে সংগ্রাম কমিটি ও গণবাহিনী গড়িয়া তোলা, বৃহৎ সংগ্রামের জন্য ‘যার যাহা আছে’ তাই নিয়া প্রস্তুত হওয়া, কর্মীবাহিনীর নিয়মিত প্যারেড অনুষ্ঠান করা এবং কৃষকদের মধ্যে আন্দোলন ছাড়াইয়া দেওয়া। (সংবাদ: ১২ মার্চ শুক্রবার, ১৯৭১)
তাজউদ্দিন কর্তৃক নির্দেশাবলীর কতিপয় ব্যতিক্রম ও ব্যাখ্যা প্রদান : সংগ্রামের সঙ্গে অর্থনীতিকে সক্রিয় রাখার আহ্বান
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব তাজউদ্দিন আহমদ গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিব কর্তৃক পূর্বঘোষিত নির্দেশাবলীর কতিপয় ব্যতিক্রম ও ব্যাখ্যা প্রদান করেন। বিবৃতিতে তিনি সংগ্রাম চালাইয়া যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিকে পুরোপুরি সক্রিয় রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন যে, আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস এবং ক্ষুধার্ত জনতাকে দুর্দশায় ফেলিবার জন্যে স্বার্থান্বেষী এবং গণবিরোধী শক্তিসমূহ যে ষড়যন্ত্র চালাইতেছে উহা নস্যাৎ করিতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
জনাব তাজউদ্দিন নির্দেশনাবলী প্রসঙ্গে ঘোষণা করেন যে, এখন হইতে উপযুক্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পণ্যাদি ক্রয়ের জন্য সপ্তাহে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক হইতে তুলিতে পারিবে। শিল্পোৎপাদন যাহাতে স্বাভাবিকভাবে চলে সে জন্যই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে। ব্যাখ্যায় ন্যাশনাল ব্যাংককে অন্যান্য ব্যাংকগুলোর চাহিদা পূরণে রি-ডিসকাউন্টিং অব্যাহত রাখিতে বলা হইয়াছে।…
(সংবাদ: ১২ মার্চ শুক্রবার, ১৯৭১)
ভুট্টোর তার
করাচি, ১১ মার্চ- পিপলস্ পার্টির চেয়ারম্যান জনাব জুলফিকার আলী ভুট্টো শেখ মুজিবুর রহমানের সহিত সাক্ষাতের জন্য অবিলম্বে ঢাকা যাইতে রাজী আছেন বলিয়া জানাইয়াছেন। আওয়ামী লীগ প্রধানের নিকট প্রেরিত এক তার বার্তায় জনাব ভুট্টো বলেন যে, পাকিস্তান রক্ষা করা এবং ইহাকে শান্তি ও অগ্রগতির এমনই একটি পথ স্থাপন আমাদের উভয়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত, যে পথে দেশের দুইটি অংশই পরিপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হইবে।
জনাব ভুট্টো তাহার তার বার্তায় বলেন, ‘দেশে উদ্ভূত সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর মোড় পরিবর্তনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন হইয়া পড়িয়াছি। এই সঙ্কটকালে যাহারা প্রাণ হারাইয়াছেন তাহাদের জন্য আমি শোকাভিভূত। তাহাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের জন্য আমার প্রাণ কাঁদিতেছে। আমরা পাকিস্তানে একটি নতুন ব্যবস্থা কায়েম করিতে চাই, যে ব্যবস্থায় মানুষের উপর মানুষের এবং অঞ্চলের উপর অঞ্চলের শোষণের অবসান ঘটিবে, শুধু শাসনতন্ত্রেই নয়, প্রত্যেক পাকিস্তানীর অন্তর এই নয়া ব্যবস্থায় সমৃদ্ধ করিয়া তোলার জন্যও আমাদিগকে কাজ করিতে হইবে। ‘আমরা আজ বিরাট সংকটের সম্মুখীন। দেশের ভবিষৎ অনিশ্চিত অবস্থায় দোদুল্যমান। এ ব্যাপারে আমাদের বিপুল দায়িত্ব রহিয়াছে। ধ্বংস এড়ানোর জন্য মানুষের সাধ্যায়ত্ত সব কিছুই আমাদিগকে করিতে হইবে’। ‘এই দুর্ভাগ্যজনক সংকটের শুরু হইতে এ পর্যন্ত আমার মনে এই ধারণা সৃষ্টি হইয়াছে যে, আমরা আজ এমন একটি স্থানে আসিয়া পৌছিয়াছি এখান হইতে দেশ রক্ষা করার জন্য পাকিস্তানের দুইটি অংশকেই অবিলম্বে একটি সমঝোতায় পৌছানো দরকার। দেশকে রক্ষা করিতে হইবে এবং তাহা যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে।
(ইত্তেফাক, ১২ মার্চ শুক্রবার, ১৯৭১)
কুর্মিটোলা মার্শাল ল’ অফিস ছাড়া কোথাও পাকিস্তানি পতাকা দেখি নাই- আজগর খান
(ইত্তেফাকের করাচী অফিস হইতে) ১১ মার্চ-এয়ার মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) আজগর খান দেশবাসীকে সতর্ক করিয়া দিয়া বলেন যে, অত্যন্ত দ্রুত সময়ের পট-পরিবর্তন হইতেছে এবং এই সময় দেশকে বিচ্ছিন্নতার হাত হইতে বাঁচাইতে হইলে যথাস্তর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। তিনি বলেন যে, কেবল কুর্মিটোলার মার্শাল ল’ দফতরসমূহ ছাড়া অন্য কোথাও পাকিস্তানী পতাকা তাহার দৃষ্টিগোচর হয় নাই।
(ইত্তেফাক, ১২ মার্চ শুক্রবার, ১৯৭১)