
আহমাদ মাযহার
আমাদের মঞ্চে দর্শক-শ্রোতার চেয়ে
বক্তারা সংখ্যায় বেশি;
শিল্পীর কণ্ঠে যতটা সুর তার তুলনায়
জোরে চাওয়া হয় করতালি!
চর্চার পটভূমি নেই বলে গুরুত্ব বেশি অনুদানে।
সমাদর না হলেও চলে আয়োজকের
মুখ্য যে তার কাছে দর্শকের সংখ্যা!
প্রেমিকের ভালোবাসা নেই
আছে শুধু অধিকার ফলানো,
স্ত্রীর ভালোবাসা ঢাকা পড়ে তার অর্থের দাপটে,
কবিতার সাধনা নয়, কাঙ্ক্ষিত কবিখ্যাতি
রচনার চেয়ে গুরুত্ব বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে;
অর্জনের চেয়ে বেশি লাভ তার উদযাপনে,
জাঁকজমকের তুলনায় উপেক্ষা সৌন্দর্যকে।
আমাদের যাপিত জীবনের এই তো স্বাভাবিকতা!
বিষণœ সাধক কবি কালপ্রভুকে জিজ্ঞাসা করলেন,
এই কালে কি তাহলে সৌন্দর্যের স্থান নেই?
ক্ষুব্ধকণ্ঠে জবাব দিলেন তিনি,
‘সৌন্দর্য ধুয়ে পানি খাওয়ালে চলবে তোমাদের?’
সাধক কবি ক্ষীণ কণ্ঠে যা বললেন
উদযাপন- উৎসবের ড্রামের আওয়াজে
তা ঢাকা পড়ে গেল,
কালপ্রভুর কানে পৌঁছাল না।
যদি সাধক কবির মুখের কাছে কান নিয়ে
কেউ শুনতে চাইত কী বলছেন তিনি
তাহলে শুনতে পেতÑ
‘সৌন্দর্য ধুয়ে পানি খাওয়ার লোকেরই
বড্ড অভাব আমাদের!’



