
হাভার্ড মেডিকেল স্কুলে লাশের মাথা-হাড়-মাংস ঘরে নিয়ে যেতেন মর্গের ম্যানেজার!
যুক্তরাষ্ট্রের হাভার্ড মেডিকেল স্কুল মর্গের সাবেক ম্যানেজার সেড্রিক লজের বিরুদ্ধে মরদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চুরি এবং বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ৫৫ বছর বয়সী সেড্রিক লজ সেই পাঁচজনের মধ্যে একজন, যারা হার্ভার্ড মর্গে দান করা মরদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চুরি এবং বিক্রি করার অভিযোগে গ্র্যান্ড জুরি দ্বারা অভিযুক্ত হয়েছেন।
গত ৬ মে সেড্রিক লজকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। অন্য আসামিদের ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এই কর্মকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি অফিস।
প্রসিকিউটররা বলছেন, সেড্রিক লজ ১৯৯৫ সালে হার্ভার্ড মর্গে নিয়োগ পান। তিনি মাঝে মাঝে সম্ভাব্য ক্রেতাদের মর্গে মরদেহ পরীক্ষা করার সুযোগ দিতেন। মরদেহের কোন অংশগুলো তারা কিনতে ইচ্ছুক সেটা নির্বাচন করতে দিতেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ক্রেতারা বেশির ভাগ শরীরের দেহাংশ পুনরায় বিক্রি করত।
সেড্রিক লজ কখনও কখনও বাড়িতে মরদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে যেতেন। চুরি করা দেহাংশের মধ্যে নিতেন মাথা, মস্তিষ্ক, চামড়া এবং হাড়। এগুলো নিয়ে বাড়িতে রাখতেন। তার স্ত্রী ডেনিসও (৬৩) স্বামীকে এ কাজে সাহায্য করতেন। কিছু দেহাংশ পরে ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হত বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বুধবার (১৪ জুন) সেড্রিক লজকে গ্রেপ্তার করে। তবে এফবিআই তাৎক্ষণিক ভাবে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
প্রসঙ্গত, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে দান করা মরদেহগুলো শিক্ষা, শিক্ষাদান ও গবেষণার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। একবার এই মরদেহগুলোর ব্যবহার শেষ হয়ে গেলে পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং ছাই তাদের পরিবারকে ফেরত দেওয়া হয় বা কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।



