যুক্তরাষ্ট্র

হামাসকে নিরস্ত্র হতে বাধ্য করা হবে, প্রয়োজনে আমরাই করব সহিংসভাবে: ট্রাম্প

গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে করা শান্তিচুক্তির পর হামাসের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র হতে বাধ্য করা হবে। প্রয়োজন হলে ‘সহিংস’ উপায় অবলম্বন করা হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা অস্ত্র নামিয়ে না রাখে, তাহলে আমরাই তাদের নিরস্ত্র করব—তা হবে দ্রুত, আর প্রয়োজনে সহিংসভাবেও। তবে তারা নিরস্ত্র হবে, বুঝতে পারছেন তো?’ তিনি আরও বলেন, এটি ‘যুক্তিসংগত সময়সীমার মধ্যেই’ হওয়া উচিত।

এই সপ্তাহে গাজায় ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় করা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হামাসকে কীভাবে নিরস্ত্র করা হবে এবং তারা কবে গাজা ছাড়বে, বিশেষ করে তার ২০ দফা শান্তিচুক্তির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হলে।

ট্রাম্পের আগের বক্তব্যগুলো থেকে ধারণা পাওয়া গিয়েছিল, গাজায় হামাসকে সীমিত ভূমিকায় থাকতে দেওয়া হতে পারে। এরই মধ্যে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের দূতদের সঙ্গে হামাস নেতাদের সরাসরি বৈঠক হয়েছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।

এর আগেও ট্রাম্প বলেছিলেন, স্বল্প মেয়াদে হামাসকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সীমিত ভূমিকা রাখতে দেওয়া হতে পারে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, হামাস ও ইসরায়েলকে পুনরায় সংঘাতে জড়িয়ে পড়া থেকে কীভাবে বিরত রাখা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার হামাস একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় তারা আটজন চোখ বাঁধা, হাত বাঁধা ও হাঁটু গেড়ে বসা ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করছে।

ইসরায়েলের ‘সহযোগী ও সমাজবিরোধী’ হিসেবে ওই ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গুলি করে হত্যার দাবি করে হামাস। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পর হামাস গাজার ‘ফিলিস্তিনি অপরাধী চক্র ও গোত্রীয় গোষ্ঠীগুলোর’ বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হওয়ার আগে হামাসকে সীমিতভাবে নিরাপত্তা রক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে। যদিও তার ২০ দফা শান্তিচুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে, হামাসকে নিরস্ত্র হতে হবে এবং গাজা দখলের লক্ষ্য ত্যাগ করতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘হামাস এখনো টিকে আছে। কারণ, তারা সমস্যার অবসান চায়। তারা তা স্পষ্টভাবেই জানিয়েছে। আমরা তাদের কিছু সময়ের জন্য অনুমতি দিয়েছি।’

ট্রাম্প আরও বলেন, গাজা পুনর্গঠন একটি কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হবে এবং এ জন্য মাঠপর্যায়ের শক্তিগুলোর সঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

মিসরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় ট্রাম্প বলেন, ‘শান্তিচুক্তির দ্বিতীয় ধাপ আমাদের দৃষ্টিতে শুরু হয়ে গেছে।, যদিও তিনি জানান, কিছু দিক সময়ের সঙ্গে বাস্তবায়িত হবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। সব ধাপ কিছুটা একসঙ্গে মিশে আছে। গাজা এখন পরিষ্কার করতে হবে—ওখানে অনেক কিছুই গুছিয়ে নিতে হবে।’

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে হামাস নেতাদের এক বৈঠকের পর এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে কুশনার ব্যক্তিগতভাবে হামাসকে আশ্বাস দেন যে তারা শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করলে ট্রাম্প ইসরায়েলকে পুনরায় সংঘাত শুরু করতে বাধা দেবেন।

গত বুধবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছিলেন হামাসের রাজনৈতিক নেতা খালিল আল-হায়া, যিনি গত মাসে দোহায় ইসরায়েলের এক হত্যাচেষ্টায় বেঁচে যান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এটি ছিল হোয়াইট হাউস ও হামাসের মধ্যে প্রথম বৈঠক, যা এর আগে মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের জিম্মি বিষয়ক দূত অ্যাডাম বোহলার হামাস নেতাদের সঙ্গে দোহায় বৈঠকের পর আর হয়নি। সে সময় তিনি মার্কিন-ইসরায়েলি জিম্মি এডান আলেকজান্ডার ও হামাসের হাতে থাকা আরও চারজন মার্কিন নাগরিকের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন।

গত সপ্তাহের ৪৫ মিনিটের বৈঠকে উইটকফ হামাসকে বলেন, ‘জিম্মিরা এখন আপনাদের জন্য সম্পদের চেয়ে বোঝা বেশি। এখনই তাদের মুক্তি দেওয়ার সময়।’

অ্যাক্সিওসের সূত্র জানায়, উইটকফ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বার্তা হলো—আপনাদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হবে এবং তিনি তাঁর ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রতিটি দফা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।’

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এই সরাসরি বৈঠকই ছিল শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি। বৈঠকের পর মিসর, তুরস্ক ও কাতারের গোয়েন্দাপ্রধানেরা আলাদা করে হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরে উইটকফ ও কুশনারকে বলেন, ‘আমরা যেই বৈঠক শেষ করেছি, তাতে আমরা একমত হয়েছি—চুক্তি হয়েছে।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension