আন্তর্জাতিক

মাদাগাস্কারে ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী

মাদাগাস্কারের সামরিক বাহিনী দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় রেডিওতে ঘোষণা দিয়েছেন কর্নেল মাইকেল র‍্যান্ড্রিয়ানিরিনা। জেন-জি আন্দোলনের জেরে প্রেসিডেন্ট অ্যান্দ্রি রাজোয়েলিনা দেশ ত্যাগ করার পর এ ঘোষণা এসেছে।

কর্নেল র‍্যান্ড্রিয়ানিরিনা বলেন, ‘আমরা ক্ষমতা গ্রহণ করেছি।’ তিনি জানান, সেনাবাহিনী দেশের সব রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করছে, তবে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ—ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিকে বহাল রেখেছে। কয়েক মিনিট আগেই এই সংসদ রাজোয়েলিনাকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

সিএনএন জানিয়েছে, ৫১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা মাদাগাস্কারের সংসদ ভেঙে দেওয়ার অধ্যাদেশ জারি করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে তিনি ফরাসি সামরিক বিমানে চড়ে দেশ ছাড়েন। তবে তিনি দাবি করেছেন, প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন এবং পদত্যাগ করেননি।

রয়টার্স জানিয়েছে, বিরোধী শিবির ও সামরিক সূত্রগুলো রাজোয়েলিনার দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে এর আগে সংসদের বৈঠককে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করে রাজোয়েলিনার অভিশংসনকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছিল এ কার্যালয়।

দেশটিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ প্রথমে পানি ও বিদ্যুৎ-সংকটের প্রতিবাদে শুরু হলেও দ্রুত তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দুর্নীতি, খারাপ শাসন ও মৌলিক সেবার অভাবের অভিযোগে ক্ষুব্ধ তরুণেরা রাজধানী আন্তানানারিভোর ঐতিহাসিক স্কয়ারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে নামেন।

দেশটির ফরাসি ঔপনিবেশিক স্থাপত্যে ঘেরা রাস্তায় হাজারো মানুষ নাচে, গান গায় এবং রাজোয়েলিনাকে ‘ফরাসি দালাল’ আখ্যা দিয়ে পোস্টার প্রদর্শন করেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এ ঘটনায় বলেছেন, সংবিধানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ বাস্তব এবং তা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়।

বিক্ষোভের দিনগুলোতে প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ক্যাপস্যাটের সমর্থন হারিয়েছিলেন। এই ইউনিটই ২০০৯ সালের অভ্যুত্থানে তাঁকে দেশটির ক্ষমতায় এনেছিল। গত সপ্তাহে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ‘ক্যাপস্যাট’ ইউনিট জানায়, তারা আর বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাবে না, বরং তাদের নিরাপত্তা দেবে। তাদের এই অবস্থান রাজোয়েলিনার পতনের পথ আরও সুগম করে।

৩ কোটি জনসংখ্যার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারের তিন-চতুর্থাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে দেশটির মাথাপিছু আয় বাড়েনি, বরং ৪৫ শতাংশ কমে গেছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension