
হাসপাতালে জিমি কার্টার
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় ব্যাথা পাওয়ার কারণে মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ফের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে সোমবার তাকে আটলান্টার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কার্টার সেন্টারের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। তার বর্তমান বয়স ৯৫ বছর। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে তিনি ৯২ বছর বয়সী স্ত্রী রোসালিনের সঙ্গে অবসর সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি।
কার্টার সেন্টারের বরাত দিয়ে রয়টার্স আরো জানায়, সোমবার হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। মঙ্গলবার সকালের দিকে তার মস্তিষ্কের অপারেশন করা হতে পারে।
গত তিন সপ্তাহ আগেই জর্জিয়ায় প্লেইনসে নিজ বাড়িতে হঠাৎ পড়ে যাওয়ায় পেলভিক ফ্রাকচার ধরা পড়লে কার্টারকে এমোরি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তিন সপ্তাহ চিকিৎসা নেয়ার পর সম্প্রতি বাসায় ফিরেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। কিন্তু মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে তাকে ফের হাসপাতালে যেতে হলো।
গত অক্টোবরের গোড়ার দিকে আরো একবার পড়ে গিয়েছিলেন ৯৫ বছর বয়সী কার্টার। তখন তার মুখে সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়েছিল। গত মে মাসেও তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তার নিতম্বের হাড় ভেঙে যায়। এজন্য অপারেশনের টেবিলেও যেতে হয় তাকে।
এর আগে ২০১৭ সালে পানি শূন্যতার কারণে তাকে আরও একবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার আগে ২০১৫ সালে স্কিন ক্যান্সারের চিকিৎসা নেন তিনি।
একজন বাদাম চাষী হিসেবে তার প্রথম কর্মজীবন শুরু করেছিলেন জিমি কার্টা। পরবর্তীতে জর্জিয়ার গভর্নর হন। ১৯৭৬ সালে রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। হোয়াইট হাউসে চার ব্ছরের জন্য যান তিনি। জিমি কার্টারের শাসনামলে মার্কিন অর্থনীতিতি মন্দা নেমে আসে, দেখা দেয় জ্বালানি সংকট। তবে ইসরায়েল-মিসরের শান্তি চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পালন করেন তিনি।
১৯৮০ সালে আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। কিন্তু সেবার রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রোনাল্ড রিগানের কাছে হেরে যান তিনি। হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ১৯৮১ সালে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেন জিমি কার্টার।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুরোনো সংঘাতের অবসান, গণতন্ত্র, মানবাধিকারের লড়াই, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখায় ২০০২ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সূত্র : রয়টার্স এমএ/



