
হায়দরাবাদে পাক পন্থী সংগঠনের সভায় আপত্তি মৌলানাদের
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: নিজামের শহরে অনুষ্ঠান করতে আগ্রহী পাকিস্তান পন্থী সংগঠন দাওয়াত-ই-ইসলামী। আর তাতেই আপত্তি জানিয়েছে ওই শহরেরই একদল মৌলনা। যার কারণে অনুমতি মেলেনি দাওয়াত-ই-ইসলামীর।
ডিসেম্বর মাসের ২৯ এবং ৩০ তারিখ জুড়ে পুরনো হায়দরাবাদে বিশাল অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছিল দাওয়াত-ই-ইসলামী। নিয়ম মেনে তারা পুলিশের কাছে আবেদনও করেছিল। যদিও সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি হায়দরাবাদ পুলিশ।
স্থানীয় বহু মুসলিম সংগঠন দাওয়াত-ই-ইসলামীর উপরে ক্ষুব্ধ। যার প্রধান কারণ হচ্ছে ওই সংগঠনের উগ্রবাদ। সেই সঙ্গে ওই সংগঠনের পাকিস্তান প্রীতিও তাঁদের বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ। তেমনই বিভিন্ন সংগঠনের প্রধান এবং মৌলানারা দাওয়াত-ই-ইসলামীর অনুষ্ঠানে আপত্তি জানায়। এই বিষয়ে লিখিত আবেদন করা হয় হায়দরাবাদ পুলিশের কাছে। যার জেরে দাওয়াত-ই-ইসলামীর অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।

ওই শহরের সংঠন সিরাত উন নবি অ্যাকাডেমির মৌলানা সৈয়দ আলি কাদরি প্রথম সরব হয়েছিলেন দাওয়াত-ই-ইসলামীর বিরুদ্ধে। পরে একে একে সেই পথে পা বাড়ায় মুতুজা পাশা, এলে মুস্তাফা আলি পাশা, হাফিজ মুজফফর খান সহ অন্যান্য বহু মৌলানা। সকলেই দাওয়াত-ই-ইসলামীর অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। দাওয়াত-ই-ইসলামীর সভায় হায়দরাবাদের অনেক যুবকদের উগ্রবাদে প্রভাবিত করা হবে বলেও অভিযোগ করেছেন মৌলানারা।

এই বিষয়ে সিরাত উন নবি অ্যাকাডেমির মৌলানা সৈয়দ আলি কাদরি বলছেন, “দাওয়াত-ই-ইসলামীর বিরুদ্ধে আমাদের মূল অভিযোগ হচ্ছে ওটা একটা পাকিস্তান পন্থী সংগঠন। আমাদের দেশের তেমন কোনও সংগঠনের প্রয়োজন নেই। আমাদের দেশে হাজার হাজার ধর্মীয় সংগঠন রয়েছে” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “পাক মতাদর্শের সঙ্গে আমাদের বিস্তর ফারাক রয়েছে। দাওয়াত-ই-ইসলামীর ক্রিয়াকলাপ নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী।”

শুক্রবার পর্যন্ত কোনও অনুষ্ঠানের অনুমতি পায়নি দাওয়াত-ই-ইসলামী। হায়দরাবাদের দক্ষিণ বিভাগের ডিসিপি আম্বের কিশোর ঝা দুই পক্ষের আবেদন গ্রহণ করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে অনুষ্ঠানের অনুমতির বিষয়ে কিছু বলেননি। ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে দাওয়াত-ই-ইসলামী হায়দরাবাদে অনুষ্ঠান করেছে বলে জানিয়েছেন ডিসিপি আম্বের কিশোর ঝা।



