আঞ্চলিকবাংলাদেশ

রাজশাহীর অতিরিক্ত কমিশনারের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের হুমকির অভিযোগ

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে ক্রসফায়ার ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টারস এসোসিয়েশন লবিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন আনোয়ার হোসেন নয়ন নামে এক ব্যবসায়ী। অভিযোগকারী নয়ন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর এলাকার আব্দুল লতিবের ছেলে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী নগরীর যষ্টিতলা নিউমার্কেট এলাকায় বসবাস করছেন। আনোয়ার হোসেন নয়ন আরএমপি’র বোয়ালিয়া মডেল থানার মামলার বাদী। তার ভাই আব্দুল মতিনও রাজশাহীতে ব্যবসা করতেন। নিউমার্কেটে এশিয়ান স্কাইশপ, এশিয়ান ক্রোকারিজ ও নগরীর থিম ওমর প্লাজায় ‘কুইন্স পার্ক’ নামে একটি কসমেটিকসসহ বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে তার। এ ছাড়া এমএক্সএন মডার্ন হারবাল গ্রুপের ফুড সাপ্লিমেন্ট প্রডাক্টের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ তিনি।

লিখিত অভিযোগে আনোয়ার হোসেন নয়ন বলেন, আমার ভাই আব্দুল মতিনের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুরুন্নবী পলাশ টাকা হাতিয়ে নিতে ব্ল্যাকমেইলের একটি পরিকল্পিত ছক তৈরি করেন।

এর আগে তার সুপারিশে আমার ভাই আব্দুল মতিনের মালিকানাধীন এশিয়ান স্কাইশপে ম্যানেজার পদে চাকরি নেন বন্ধু পলাশের শ্যালক মিনারুল হক মিঠু। সেই সুযোগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলে নেয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগে নয়ন বলেন, পরে আমার ভাইয়ের পরামর্শে নুরুন্নবী পলাশকে প্রধান আসামি করে মামলা করি। মামলার পর নগরীর তেরখাদিয়ার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আসামি নুরুন্নবী পলাশকে গ্রেপ্তার ও আমার ভাইয়ের নামীয় ৩টি চেক উদ্ধার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই গোলাম মোস্তফা। যার একটিতে ৩ কোটি টাকা ও দুইটি চেক ফাঁকা ছিল। সেই থেকে পলাশ কারাগারে আছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলার তিন নাম্বার আসামি আনারুল ইসলাম জয় হাইকোর্ট থেকে পাওয়া জামিনের মেয়াদ শেষে আত্মসমর্পণ করলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন রাজশাহীর সিএমএম আদালত। এ মামলায় প্রতারণা চক্রের সদস্য দুই বন্ধু এখন কারাগারে আছে। তার ভাইকে ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে ম্যানেজার দিয়ে চেক চুরি করে পলাশ ও তার বন্ধু জয় মোট ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার মামলা করেছে। ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার মামলা করেছে জয়।

নয়ন বলেন, এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজশাহীর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলামের বডিগার্ড পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি আমাকে ফোন করে মামলার সাক্ষীদের নিয়ে তার অফিসে যেতে বলেন।

অভিযোগে নয়ন বলেন, আমি তার কথা মতো গত ২৮ নভেম্বর বিকাল ৩টায় দুজন সাক্ষী সঙ্গে নিয়ে আরএমপি কার্যালয়ে যাই। তার অফিসে ঢুকতেই আমাকে অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম। এক পর্যায়ে তিনি আমাকে বলেন, ‘এ মামলা তুলে না নিলে তোকে গুলি করে ক্রসফায়ার বলে চালিয়ে দিব। বুদ্ধি থাকলে তুই দ্রুত এ মামলা তুলে নিবি। না হলে তুই ও তোর পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে ১০০টা মামলা হবে।এ সময় থানা পুলিশের কর্মকর্তাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। বলেন, এ মামলা যারা নিয়েছে, সেই…. বাচ্চাদের ব্যবস্থা করব। ওই পুলিশ কর্মকর্তা প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে আমাকে গালিগালাজ, ক্রসফায়ার ও মিথ্যা মামলার হুমকিসহ মানসিক টর্চার করেছে।’

এমন পরিস্থিতিতে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা উল্লেখ করে নিরাপত্তা ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন নয়ন বলেন, তার এই হুমকির পর থেকে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। যে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইব সেই পুলিশ হত্যার হুমকি দিচ্ছে। যার জন্য আইজিপি মহোদয়ের কাছে আবেদন জানিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension