
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হারাতে যাচ্ছে ইউক্রেন: হোয়াইট হাউস
দনবাস অঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হারাতে যাচ্ছে ইউক্রেন। রুশ সেনারা এখন আভদিভকা শহর দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই শহরটিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় যোদ্ধাদের ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে। ২০২২ সালে রুশ সেনারা ইউক্রেনে প্রবেশ করে স্থানীয় যোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেয়। দনেতস্কের রাজধানীর একদম কাছেই অবস্থিত এই শহরটি ধরে রাখতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছিল ইউক্রেন। কৌশলগত দিক থেকে শহরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে সহজেই দনেতস্ক সিটিতে গোলা ছুঁড়তে পারতো ইউক্রেন। তবে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি সাংবাদিকদের জানান যে, আভদিভকায় তীব্র যুদ্ধ চলছে এবং রাশিয়ার বাহিনী শহরটি দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরটির খবরে বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকেই আভদিভকা শহর থেকে দনেতস্ক শহরে গোলা ছুঁড়তো ইউক্রেন। শহরটি দনেতস্কের রাজধানী থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেন দনেতস্ক শহরের সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে নির্বিচারে গোলা ছুঁড়ে আসছে। গত এক দশকে দনেতস্কের মানুষ এসব হামলা থেকে বাঁচতে পুরো শহরজুড়ে বাঙ্কার তৈরি করেছে।
জন কিরবি বলেন, আভদিভকার চারদিকে যুদ্ধ তীব্র হয়ে উঠছে। ইউক্রেনীয়রা আমাদের কাছে যে রিপোর্ট পাঠাচ্ছে, তাতে বুঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি বেশ কঠিন। প্রতিদিনই রুশরা ইউক্রেনীয়দের অবস্থানকে পেছনে ঠেলে দিচ্ছে। শহরটি এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে।
আভদিভকার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর ধরে রাখতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে ইউক্রেন। গত সপ্তাহে যুদ্ধের কম্যান্ডার-ইন-চিফ পরিবর্তন করেছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নতুন নিয়োগ পাওয়া জেনারেল আলেক্সান্দ্র সিরস্কি নিজেও বেশ কিছু যুদ্ধে পরাজিত হয়েছেন। তবে তিনি আভদিভকায় চমক দেখাতে বদ্ধ পরিকর। নিয়োগের পরপরই তিনি ইউক্রেনের তৃতীয় অ্যাসল্ট ব্রিগেডকে আভদিভকায় মোতায়েন করেন। এই ব্রিগেড পুরোপুরি পশ্চিমা অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত এবং এর সদস্যদের একটি বড় অংশই নব্য নাৎসি আজভ রেজিমেন্ট থেকে আনা।
যদিও এই ব্রিগেড এসেও আভদিভকাকে বাঁচাতে পারছে না। ইউক্রেন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আভদিভকা পরিস্থিতি নিয়ে কিছু ঘোষণা করেনি। তবে জার্মান সাংবাদিক জুলিয়াম রোপকে দাবি করেছেন, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী শহরটি থেকে পিছু হটার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অপরদিকে রাশিয়ার সেনারা দ্রুত শহরটির চারদিক দিয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এমনকি শহরের প্রবেশদ্বারে রাশিয়ার পতাকাও উত্তলন করা হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে ওই স্থানে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলেছিলেন জেলেনস্কি।



