যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। এ দিনকে সামনে রেখে ও এক্টিভিস্ট অ্যালেক্সি নাভালনির কারাগারে মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া হিসেবে মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন করে শত শত নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে দেয়া এই নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে। ৫০০টিরও বেশি নতুন নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার রপ্তানি হ্রাসে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন। রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে আয় কমাতে এর আগেও শত শত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল দেশটি। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকরী হয়েছে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

আল-জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। নতুন করে টার্গেট করা হচ্ছে রাশিয়ার ব্যবসায়ীদের। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ভিটিবি ব্যাংকের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। এটি রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক। বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে যেনো পুতিনকে আরও বেশি মূল্য দিতে হয়।

এদিকে নতুন অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ ঘোষণার আগে আর্কটিক পেনাল কলোনিতে এক্টিভিস্ট নাভালনির মৃত্যুর বিষয়টিকেও মাথায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত সপ্তাহে নাভালনির মৃত্যুর পরই হোয়াইট হাউস নতুন করে রুশবিরোধী নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছিল। নাভালনির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিমা দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ যাই হোক না কেনো এ জন্য রুশ সরকারই দায়ী।
বাইডেন বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া এবং কন্যা দাশার সাথে দেখা করেন। তিনি বলেন, আমরা আগামীকাল পুতিনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করতে যাচ্ছি, যিনি নাভালনির মৃত্যুর জন্য দায়ী। এর প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিন বলেছে, কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই পশ্চিমারা এসব অভিযোগ করছে। দেশটি পশ্চিমাদের এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছে।

মার্কিন ডেপুটি ট্রেজারি সেক্রেটারি ওয়ালি অ্যাডেইমো বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, অন্য মিত্র দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলি দেয়া হবে। তারাও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার উপর চাপ বজায় রাখতে চাইছে। আগামীকাল আমরা শত শত নিষেধাজ্ঞা জারি করব। মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রই এই পদক্ষেপগুলি নিচ্ছে না।

রাশিয়াকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে গত দুই বছরে দেশটির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। ১২ হাজারেরও বেশি নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিকে দুর্বল করতে এবং ইউক্রেনে দেশটির যুদ্ধ করার সক্ষমতা হ্রাসে ভূমিকা রাখবে বলে আশা ছিল তাদের। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা কতখানি কার্যকরী হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুক্রবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ১৩তম প্যাকেজ ঘোষণা করে। এতে দুই বছরের সংঘাতে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ২০০ সংস্থা ও ব্যক্তিকে এর আওতায় আনা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল বলেন, আজ আমরা রাশিয়ার সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা আরও কঠোর করছি। রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে ধ্বংস করতে ও ইউক্রেনকে আত্মরক্ষার জন্য তার বৈধ লড়াইয়ে জয়ী হতে সাহায্য করার জন্য আমরা আমাদের সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। এর আগে নাভালনি যেখানে মারা গিয়েছিলেন সেই পেনাল কলোনির তত্ত্বাবধানে থাকা ছয়জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বৃটেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension