
যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেন নেতানিয়াহু
ছয় সদস্যের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রোববার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় ইসরায়েলের রাজনৈতিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সোমবার নেতানিয়াহু এই ঘোষণা দেন। খবর আল জাজিরা, রয়টার্স।
খবরে বলা হয়, এক সপ্তাহ যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ ও গাদি আইসেনকট পদত্যাগ করার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্ত নিলেন। গাজায় কৌশল বাস্তবায়নে নেতানিয়াহু ব্যর্থ হয়েছেন দাবি করেন গান্টজ পদত্যাগ করেছিলেন।
মূলত গান্টজের পরামর্শেই যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন নেতানিয়াহু। সেই গান্টজই পদত্যাগ করায় এই বিশেষ মন্ত্রিসভার দরকার নেই বলে মনে করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া গান্টজের পদত্যাগের পর নেতানিয়াহু সরকারের অতি-ডানপন্থী জোটসঙ্গীরা যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে এ রকম নতুন আরেকটি মন্ত্রিসভা গড়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভাটি ভেঙে দেওয়া হয়।
তবে মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেও এর সদস্যদের সঙ্গে ‘নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয়’ নিয়ে পরামর্শ অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেও এর দুই সদস্য বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং কৌশলগত মন্ত্রী রন ডারমারকে নিয়ে গঠিত ছোট্ট একটি গ্রুপের সঙ্গে পরামর্শ চালিয়ে যাবেন তিনি। অবশ্য নতুন কোনো মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে কিনা তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
এদিকে ইসরায়েলের ওপর গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য দেশি-বিদেশি চাপ বাড়ছে। এমনকি দেশটির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও এখন যুদ্ধবিরতির পক্ষে। এ অবস্থায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) গাজার কিছু অংশে সাময়িক কৌশলগত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১১ ঘণ্টার এই যুদ্ধবিরতি চলবে। দক্ষিণ গাজার কেরেম শালোম ক্রসিং থেকে সালাহ আল-দিন রোড এবং খান ইউনুস সিটির ইউরোপীয় হাসপাতাল পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তবে এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।



