প্রধান খবরবাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ডে কর্মীর বাহুতে হাত রাখায় সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করলেন মন্ত্রী

আইনের শাসনের এক অনন্য উদাহরণ দেখা গেছে নিউজিল্যান্ডে। অধীনস্থ কর্মীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী অ্যান্ড্রু বেইলি। তার অপরাধ ছিল, গত সপ্তাহে আলোচনার এক পর্যায়ে কিছুটা আধিপত্য দেখিয়ে ওই কর্মীর বাহুতে হাত রাখা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে

সোমবার এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বেইলি বলেছেন, সবার ধারণা ওই কর্মীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। আসলে দুজনের মধ্যে আবেগঘন আলোচনা চলছিল।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেছেন, আপনারা বোধহয় জানেন, মন্ত্রণালয়ে কাজের গতি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে আমি কতটা উদ্গ্রীব। গত সপ্তাহে ওই কর্মীর সঙ্গে একটা কাজ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। তবে আমি বেশি বাড়াবাড়ি করেছি তার বাহুতে হাত রেখে, যা ঊর্ধ্বতন হিসেবে আমার জন্য অশোভন।

অবশ্য মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে এখনও বহাল আছেন তিনি।

বেইলির বিরুদ্ধে গত অক্টোবরেও কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এক কর্মীর দিকে ইঙ্গিত করে কপালের ওপর তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে ইংরেজি ‘এল’ (কাউকে লুজার বা ব্যর্থ বলার এক অশোভন ভঙ্গিমা) বানিয়ে ওই ব্যক্তিকে ‘ব্যর্থ’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন বলেছেন, ওই কর্মীর সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনা হয়েছিল গত মঙ্গলবার। আর বেইলি পদত্যাগ করেছেন এই শুক্রবার। এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই বিষয়টির সুরাহা করায় সরকারের গতিশীলতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

অবশ্য, এতেও সমালোচনার হাত থেকে রক্ষা পায়নি সরকার। লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিন্স সরকারকে দুর্বল বলে কটাক্ষ করে বলেছেন, ঘটনাটি সপ্তাহান্ত পর্যন্ত গড়াতে দেওয়া উচিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী লুক্সন মন্ত্রীদের আচরণবিধির আদর্শ এতোটাই নিচে নামিয়ে দিয়েছেন যে, এখান থেকে উত্তরণ প্রায় অসম্ভব।

বেইলির পর তার স্থলাভিষিক্ত হবেন ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টির স্কট সিম্পসন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension