
উৎসর্গ: কবি দাউদ হায়দার
কবিতা লিখতে গেলে
বিধাতাকে অস্বীকার করতেই হবে
এমন কোনো কথা নেই;
বরং তাঁকে পাশে বসিয়ে
অথবা তাঁর পাশে বসে লেখা যায় প্রেমের কবিতা।
যদি তাঁকে অস্বীকার করে,
কবি তবে কার সাথে করবে সময়ের সংলাপ,
কার কাছে জানাবে অক্ষম আক্রোশ?
কার চোখে চোখ রেখে বলবে,—
হে মহান শিল্পী,
তাকিয়ে দেখুন আপনার আঁকা ক্যানভাসে,
যেখানে থাকার কথা ছিল শুধু রং
সেখানে এখন রক্তের দাগ;
তুলির প্রতিটি শৈল্পিক আঁচড় যেন
নিষ্পাপ যীশুর শরীরের বিকট বেদনা;
যেখানে এঁকেছিলেন শুভ্র পারিজাত
সেখানে এখন রংহীন, গন্ধহীন ধূসর বকুল।
হৃদপিণ্ড হাতে নিয়ে
বসে আছে পরাবাস্তব প্রেমিকা;
কে তারে বাঁধবে আজ সময়ের জালে?
অনেক প্রশ্নের ভিড়ে রাত জাগি একা,
অনেক নক্ষত্র প্রশ্ন করে
অনেকে আবার করে সাবধান;
যেহেতু জেনেছি আমি
বিশুদ্ধ বিজ্ঞান বলে, বিলুপ্ত বিধাতা;
অথচ আমার মনে জ্বলে তবু অমরার আলো।
অর্থাৎ বৃথাই বিতর্ক,
আজ আমি নামবো না তাঁর সাথে
দুরন্ত দ্বৈরথে।
কবিতা লিখব বলে
বিধাতাকে অস্বীকার করে
সাজবো না বিদ্রোহী বালক।
বীভৎস বর্তমান দেখে
হয়তো নার্সিসাস ও ভুলে যেতো আপনার রূপ;
আবেগ নিস্তেজ, রোজ শুনি
গর্ধবের গান, রোজ দেখি
কালো সূর্যের সন্তাপে মগ্ন মহাকাল।
অতএব প্রশ্ন জাগে মনে,
হে কবি, তবে কি ব্যর্থ আজ তোমার কবিতা!



