
মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডে বিদেশী বিনিয়োগ ৯ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডে বিদেশী বিনিয়োগ নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের শুক্রবার প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, মার্চে বিদেশীদের হাতে থাকা ইউএস ট্রেজারির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৯ লাখ ৫ হাজার কোটি বা ৯ দশমিক শূন্য ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৮১ ট্রিলিয়ন। টানা তিন মাস এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মার্কিন ঋণপত্রের প্রতি আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিনিয়োগের এ পরিমাণ প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে মার্কিন ঋণপত্রে বিদেশীদের আগ্রহ বেড়েছে।
জাপান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সবচেয়ে বড় বিদেশী ধারক। দেশটির মার্চে মার্কিন ট্রেজারির হিস্যা দাঁড়ায় ১ দশমিক ১৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় সামান্য বেশি। টানা দ্বিতীয় মাসে মার্কিন ট্রেজারিতে জাপানের বিনিয়োগ বেড়েছে।
চীনকে পেছনে ফেলে যুক্তরাজ্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশী ধারক। মার্চে যুক্তরাজ্যের হাতে থাকা ট্রেজারির পরিমাণ ছিল ৭৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। বিশেষজ্ঞরা জানান, যুক্তরাজ্যের এমন অনেক বিনিয়োগ হেজ ফান্ডের কাস্টডিয়াল অ্যাকাউন্ট হিসেবে রাখা হয়। একই ধরনের প্রবণতা কেম্যান আইল্যান্ডস ও বাহামাসেও দেখা যায়।
অন্যদিকে চীনের ট্রেজারি মালিকানা মার্চে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৫৪০ কোটি ডলারে, যা আগের মাসে ছিল ৭৮ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ সাল থেকে চীনের মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ ধীরে ধীরে কমছে।
তবে এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এপ্রিল থেকে পাল্টে যেতে পারে। ২ এপ্রিল ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। ৩-১১ এপ্রিলের মধ্যে ১০ বছরের সরকারি বন্ডের সুদ ৭০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, তখন কিছু বিদেশী বিনিয়োগকারী বন্ড বিক্রি করে দিয়েছেন।
পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ৯০ দিনের জন্য নতুন শুল্ক স্থগিত করে, যা বাজার কিছুটা স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে। তবে নীতিগত অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মার্চে ট্রেজারি বন্ড ও নোটে নিট ১২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বিদেশী বিনিয়োগ হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ১০ হাজার ৬২০ কোটি ডলার। করপোরেট বন্ডে ৬ হাজার ৪০ কোটি ডলার এসেছে। তবে এজেন্সি বন্ড থেকে বেরিয়ে গেছে ১ হাজার ৪০ কোটি ডলার।



