
দাম কমায় এশিয়ার দেশগুলোয় স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে
বৈশ্বিক দামে সাম্প্রতিক পতনের কারণে চলতি সপ্তাহে এশিয়ার শীর্ষ বাজারগুলোয় ফিজিক্যাল গোল্ডের (স্বর্ণের বার, মুদ্রা অথবা গহনা) চাহিদা বেড়েছে। এ সময় ভারতের ডিলাররা অভ্যন্তরীণ দামের তুলনায় প্রতি আউন্সে সর্বোচ্চ ৩৪ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন। আগের সপ্তাহে এ ছাড়ের পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ১৬ ডলার। খবর রয়টার্স।
উল্লেখ্য, এতে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত আছে।
এ বিষয়ে কলকাতার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বক্তব্য হলো, ‘দাম কমে আসায় গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে চাহিদা ভালো ছিল। যদিও অনেক ক্রেতা দাম আরো কমার অপেক্ষায় আছেন।’
ভারতে শুক্রবার প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণ প্রায় ৯২ হাজার ৯০০ রুপিতে বেচাকেনা হয়েছে। গত মাসে যা ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ হাজার ৩৫৮ রুপি। মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি ব্যাংকের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ভাষ্যমতে, ‘দাম আরো স্থিতিশীল হওয়া প্রয়োজন। যদি আরো ২ হাজার রুপি কমে প্রতি ১০ গ্রামের দাম ৯০ হাজারে নেমে আসে তাহলে প্রকৃত অর্থে স্বর্ণের চাহিদা বাড়বে।’
বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ চীনের ডিলাররা প্রতি আউন্স স্বর্ণে স্পট মূল্যের তুলনায় ৯-৫০ ডলার পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করে বেচাকেনা করেছেন। আগের সপ্তাহে এ মূল্য সংযোজনের পরিমাণ ছিল আউন্সপ্রতি ৪২-৪৯ ডলার।
রস নরম্যান নামের এক স্বতন্ত্র বিশ্লেষক বলেন, ‘দাম কিছুটা কমে আসায় স্বর্ণের বাজারে কিছু বার্গেইন হান্টিং (কোনো পণ্যের দাম কমে আসলে ভবিষ্যতে লাভবান হওয়ার আশায় ক্রয় বৃদ্ধি) প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্রেতার জন্য এটি ভালো সুযোগ।’
আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এএনজেড এক নোটে জানায়, ‘আমরা আশা করছি, আগামী প্রান্তিকগুলোয় গহনার চাহিদা স্থিতিশীল থাকবে। এছাড়া বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণের আকর্ষণীয় সম্ভাবনার কারণে খুচরা বিনিয়োগের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে।’
হংকংয়ে স্বর্ণ স্পট মূল্যের তুলনায় ২ ডলার মূল্য সংযোজন করে বেচাকেনা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে এ মূল্য সংযোজনের পরিমাণ ছিল আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ২ ডলার ৫০ সেন্ট । জাপানের ব্যবসায়ীরা প্রতি আউন্স স্বর্ণে ২৫-৫০ সেন্ট মূল্য সংযোজন করে বেচাকেনা করছেন।



