খেলা

বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’, পুরো চার্জে ৬ ঘণ্টা মাঠে গড়াবে ফুটবল

ছোটবেলায় দোকানে গিয়ে চামড়ার বলে হাওয়া দেওয়ার স্মৃতি নিশ্চয়ই অনেকের আছে। তবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পৃথিবী এখন যেখানে পৌঁছে গেছে, তাতে চাইলে এখন চার্জ দেওয়া বলেও ফুটবল খেলা সম্ভব!

কী, শুনতে একটু অবাক লাগছে? অবাক লাগলেও এটিই এখন বাস্তবতা।

হাওয়ার বদলে চার্জযুক্ত বলেই এবারের বিশ্বকাপ হবে। সেই বলে লাথি দিয়েই জাদুকরী সব মুহূর্তের জন্ম দেবেন লিওনেল মেসি-ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-কিলিয়ান এমবাপ্পেরা।
২০২৬ বিশ্বকাপের বল ‘ট্রাইওন্ডা’ও তাই আলোচনার দখল নিয়ে ফেলেছে। স্প্যানিশ এই শব্দের বাংলা অর্থ ‘তিন ঢেউ’।

‘ট্রাই’ অর্থ তিন আর ‘ওন্ডা’র মানে ঢেউ বা তরঙ্গ। বিশ্বকাপের তিন আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকেই ধারণ করা হয়েছে এই নামের মধ্যে। বলের নকশায়ও ছাপ আছে এই তিন দেশের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীকী রং নীল, কানাডার লাল এবং মেক্সিকোর জন্য নেওয়া হয়েছে সবুজ।

বলের গায়ে ছোঁয়া রয়েছে কানাডার ম্যাপলপাতা, মেক্সিকোর ইগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা প্রতীকেরও। পুরো নকশায় ব্যবহৃত সোনালি রং আবার মনে করায় প্রতিটি দলের পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফিকেও।

চামড়া আর সুতো দিয়ে বানানো গোলাকৃতির বলের ভেতরটায় যেন আস্ত এক কম্পিউটারই ভরে দিয়েছে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। কেননা বলের পেটে যে লুকিয়ে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি। যন্ত্রগুলো গুপ্ত থাকলেও এগুলোর কাজ দেখা যাবে প্রকাশ্যেই।

খেলাটায় স্বচ্ছতা আনতেই এই সবকিছুর শরণাপন্ন হয়েছে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাডিডাস বলের ভেতরে ১৪ গ্রামের এক বিশেষ মোশনের সেন্সর চিপ বসানো হয়েছে। কেন্দ্রে বসানো ৫০০ হার্টজের এই সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য বা ডেটা রেকর্ড করতে পারে। ফুটবলারদের আলতো স্পর্শও তাই রিয়েল টাইমে পাওয়া যাবে। অফসাইড, হ্যান্ডবলের মতো বিতর্কিত ঘটনাগুলো তাই সহজেই ধরা পড়বে। একবার পুরো চার্জ দিলে ছয় ঘণ্টা খেলা যাবে। এক ম্যাচের জন্য সময়টা তাই যথেষ্টই। অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি ‘ট্রাইওন্ডা’র বিশেষত্ব তুলে ধরতে গিয়ে বলছিলেন, ‘প্রতিটি ছোট জিনিসেরই বড় প্রভাব আছে। খোদাই করা নকশা, স্তরযুক্ত গ্রাফিকস এবং উজ্জ্বল রং এই বলকে অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা করেছে। এখন পর্যন্ত এটাই আমাদের তৈরি করা সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফিফা বিশ্বকাপের বল।’

সব মিলিয়ে ১৫ বার ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল তৈরি করেছে অ্যাডিডাস। ফিফার সঙ্গে তাদের পথচলা ১৯৭০ বিশ্বকাপের বল টেলস্টার দিয়ে। এর পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই নতুনত্বের ছোঁয়া দিয়ে আসছে জার্মান কম্পানিটি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension