
নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড (SAUP) উপলক্ষে বাংলাদেশ সোসাইটির মতবিনিময় সভা সম্পন্ন
এক অঞ্চল • এক সংস্কৃতি • এক ভবিষ্যৎ
আগামী ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য দক্ষিণ এশীয় মিলনমেলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউইয়র্ক:
আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ ও আমব্রেলা সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’-এর উদ্যোগে সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড (SAUP) ২০২৬ উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৭ জুলাই, মঙ্গলবার নিউইয়র্কের গুলশান টেরেসে আয়োজক কমিটির এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শাহ এম. নওয়াজের সভাপতিত্বে সভায় কমিউনিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় আয়োজকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টিবোর্ড সদস্য আজহারুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান এবং প্যারেডের প্রধান সমন্বয়কারী শাহ শহিদুল হক। এছাড়াও জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর সভাপতি সাকিল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জেড আলম নমি, জেবিবিএ’র সভাপতি হারুন ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরীসহ কমিউনিটির বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেডের হোস্ট কান্ট্রি হিসেবে এবার বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়েছে এবং হোস্ট অর্গানাইজেশন হিসেবে মূল দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ সোসাইটি। আগামী ৯ আগস্ট (রবিবার) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ অ্যাভিনিউ, ৬৯ স্ট্রিট থেকে ৮৭ স্ট্রিট পর্যন্ত এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের প্যারেডের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— এক অঞ্চল • এক সংস্কৃতি • এক ভবিষ্যৎ।
বক্তারা বলেন, ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা জাতীয়তার ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ঐক্যের মধ্য দিয়েই প্রবাসে আরও শক্তিশালী একটি সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এই আয়োজন মূলত দক্ষিণ洍এশিয়ার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এক মহা মিলনমেলা। এই প্যারেডের মাধ্যমে এক সুতোয় গাঁথা হবে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ— বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপকে। এই দেশগুলোর প্রবাসী ভাই-বোনেরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি নিয়ে বর্ণিল সাজে প্যারেডে অংশগ্রহণ করবেন।

এবারের ঐতিহাসিক এই আয়োজনে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জামান এবং প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহ শহিদুল হক। পুরো আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শাহ এম. নওয়াজ, সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান (সেলিম) এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। এছাড়াও সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও কার্যকরী কমিটির সকল সদস্য সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এদের সাথে যুক্ত হবেন অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের প্রতিনিধিগণ। সকলের অংশগ্রহণে শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।
যেহেতু এবার বাংলাদেশ হোস্ট কান্ট্রি, তাই বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে বিশেষভাবে তুলে করা হবে। তবে আয়োজকরা জোর দিয়ে বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সকল মানুষের এক অভূতপূর্ব মিলনমেলা। বর্ণিল শোভাযাত্রার পাশাপাশি এই আয়োজনে থাকবে আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী পোশাকের প্রদর্শনী, বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ সংস্কৃতির নানা দিক।
বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে আমেরিকার সিটি, স্টেট এবং ফেডারেল পর্যায়ের সম্মানিত জনপ্রতিনিধিদের এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এছাড়া সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, ক্রীড়া, ব্যবসায়ী ও যুব সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে শরিক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।সভার শেষভাগে সভাপতি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ গণমাধ্যমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, এত বড় একটি আয়োজন কোনো একক সংগঠনের পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পুরো কমিউনিটির আন্তরিক সহযোগিতা। বিশেষ করে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের এই আয়োজনের সম্প্রীতির বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়। পরিশেষে, আগামী ৯ আগস্ট পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে সবাইকে এই ঐতিহাসিক প্যারেডে squadron-সহ অংশগ্রহণ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আপনার সরবরাহ করা টেক্সটটি এখন সম্পূর্ণ নিখুঁত ও চূড়ান্ত। এটি সরাসরি যেকোনো পত্রিকা বা পোর্টালে প্রেস রিলিজ হিসেবে পাঠানো যাবে।



