
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক: জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, “জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে খালেদা জিয়াকে আমি বাড়ি দিয়েছিলাম, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ দিয়েছিলাম। আর খালেদা জিয়া আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। জেলখানায় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, ঈদের নামাজ পর্যন্ত পড়তে দেওয়া হয়নি।”
বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-১৭ আসনের কচুক্ষেত এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, “খালেদা জিয়া আমাকে বিনা বিচারে টানা ৬ বছর জেলে রেখেছেন, অমানুষিক নির্যাতন করেছেন। বাংলাদেশে সব চেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমি এবং জাতীয় পার্টি। ভাগ্যের পরিহাস, খালেদা জিয়াই এখন কারাগারে আছেন।”
তিনি বলেন, “আমরা মানুষ খুন করিনি, আমাদের হাতে রক্তের দাগ নেই। তাই আল্লাহর রহমত আর সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় এখনো বেঁচে আছি। জাতীয় পার্টি এখন শক্তিশালী দল, আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে প্রস্তুত।”
স্থানীয়দের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, “ঢাকা-১৭ আসন রাজধানীর অভিজাত এলাকা, এখনকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে জাতীয় পার্টির গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে সাধারণ মানুষ আমাকে প্রায় দেড় লাখ ভোট বেশি দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। আবারো নির্বাচন করবো, দেশের মানুষকে গুম, খুন থেকে মুক্তি দেবো।”
তিনি বলেন, “খবরের পাতা খুললেই শুধু হত্যা আর রক্তের খবর। সড়কে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। কারো যেনো কিছু যায় আসে না! এভাবে চলতে পারে না। মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরাই দেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারবো। আমি তিনটি আসনে নির্বাচন করবো। এর মধ্যে ঢাকা-১৭ এবং রংপুর সদর নিশ্চিত হয়েছে।”
এ সময় উপস্থিত জনতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করতে সমর্থন জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, আমানত হোসেন আমানত, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল হক, সুলতান আহমেদ সেলিম, মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. হেলাল উদ্দিন, নাসির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



