
ICE-এর হাতে ‘ইলেকট্রিক শক গ্লাভস’!
অভিবাসন অভিযানে ব্যথাদায়ক বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ
শাহ্ জে. চৌধুরী,নিউইয়র্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তাদের জন্য সরাসরি স্পর্শের মাধ্যমে ব্যথাদায়ক বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত প্রযুক্তিটির নাম G.L.O.V.E. (Generated Low Output Voltage Emitter)। দেখতে সাধারণ প্যাট্রোল গ্লাভসের মতো হলেও এতে এমন প্রযুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে কর্মকর্তারা কোনো ব্যক্তিকে স্পর্শ করে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারবেন। কর্তৃপক্ষের যুক্তি, প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ এবং শারীরিক সংঘর্ষের মাত্রা কমাতেই এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে।
এই প্রযুক্তি সংগ্রহ ও মোতায়েনের সম্ভাব্য ব্যয় ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত হতে পারে।
তবে নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের হাতে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার প্রযুক্তি সহজলভ্য হলে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসসহ সমালোচকরাও প্রশ্ন তুলেছেন—অভিবাসন enforcement-এর ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি আদৌ কতটা প্রয়োজনীয় এবং এর ব্যবহার কীভাবে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
সমালোচকদের দাবি, প্রযুক্তিটি ব্যবহারের আগে স্পষ্ট নীতিমালা, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, স্বাধীন নজরদারি ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে কখন, কার বিরুদ্ধে এবং কোন পরিস্থিতিতে শক দেওয়া বৈধ হবে—তা স্পষ্ট করা জরুরি।
অন্যদিকে, ICE-এর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, এ ধরনের প্রযুক্তি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং সরাসরি শারীরিক সংঘর্ষ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
অভিবাসন অভিযান, গ্রেপ্তারের সময় বলপ্রয়োগ এবং ICE কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন তীব্র বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই সময়েই ‘ইলেকট্রিক শক গ্লাভস’-এর এই পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
নিরাপত্তার নামে কতটা বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য—আর মানবাধিকারের সীমারেখাই বা কোথায়? ICE-এর এই উদ্যোগ এখন সেই মৌলিক প্রশ্নই সামনে নিয়ে এসেছে।



