
কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ
Meta-র সঙ্গে ৩৯ স্টেটের সমঝোতা, নিউইয়র্ক পেতে পারে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার
শাহ্ জে. চৌধুরী :
কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় Meta-র সঙ্গে বড় ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি স্টেট। চুক্তির আওতায় Facebook ও Instagram ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিশোরদের জন্য একাধিক নতুন বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে হবে Meta-কে। একই সঙ্গে আগামী এক দশকে সংশ্লিষ্ট স্টেটগুলোকে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে নিউইয়র্ক স্টেট পেতে পারে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার।
স্টেটগুলোর অভিযোগ ছিল, Meta-এর প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যা শিশু ও কিশোরদের দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকতে উৎসাহিত করে। এতে তাদের ঘুম, পড়াশোনা ও মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও অভিযোগ করা হয়।
কিশোরদের ব্যবহারে সময়সীমা
সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের Facebook ও Instagram ব্যবহারে দৈনিক সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
এ ছাড়া রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কিশোরদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকবে। অভিভাবকের অনুমতি থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হতে পারে।
স্কুল চলাকালীন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কিশোরদের কাছে অধিকাংশ পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও থাকবে। এর লক্ষ্য হলো পড়াশোনা ও ঘুমের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত প্রভাব কমানো।
অ্যালগরিদম ও কনটেন্টে পরিবর্তন
নতুন ব্যবস্থার আওতায় কিশোরদের জন্য বয়স-অনুপযোগী ও ক্ষতিকর কনটেন্টে প্রবেশ সীমিত করতে হবে Meta-কে। একই সঙ্গে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং অভিভাবকদের জন্য নিয়ন্ত্রণ সুবিধা বাড়ানোর কথা রয়েছে।
কিশোরদের জন্য অ্যালগরিদমনির্ভর নয়—এমন কনটেন্ট ফিডের সুযোগও রাখা হবে। এতে ব্যবহারকারীরা তাদের অনলাইন অভিজ্ঞতার ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পেতে পারেন।
নিউইয়র্কে বড় অঙ্কের অর্থ
এই সমঝোতার আওতায় নিউইয়র্ক স্টেট প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার পেতে পারে। এই অর্থ শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হতে পারে।
নিউইয়র্ক ইতোমধ্যে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই সমঝোতা স্টেটটির বিদ্যমান নীতিকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অন্যায় স্বীকার করেনি Meta
সমঝোতায় পৌঁছালেও Meta কোনো অন্যায় স্বীকার করেনি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক অনলাইন পরিবেশ তৈরি করা তাদের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, শুধু ব্যবহারের সময় সীমিত করাই যথেষ্ট নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম কীভাবে কিশোরদের সামনে কনটেন্ট তুলে ধরে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী—সেসব বিষয়েও আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
Meta-র সঙ্গে এই সমঝোতাকে যুক্তরাষ্ট্রে শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে শুধু Facebook ও Instagram নয়, অন্যান্য জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের ওপরও কিশোরদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ বাড়তে পারে।
আদালতের অনুমোদন ও চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পর নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।



