আন্তর্জাতিক

দাবানলের পর অগ্নিসংযোগকারীদের মৃত্যুদণ্ড চান আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট

আলজেরিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে বহু মানুষ মারা যাওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো ব্যক্তিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করতে চান প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেববুন। এ জন্য দেশটির ফৌজদারি আইনে পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রবিবার বিচার মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন তেববুন। তিনি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশোধিত আইনের খসড়া তৈরির সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। সরকারি হিসাবে, সাম্প্রতিক দাবানলে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রগুলোর হিসাবে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিক নোজহা খেলালেফ দাবানলে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের নাম সংগ্রহ করছেন। পরিবারগুলোর প্রকাশ করা মৃত্যুসংবাদ এবং স্থানীয় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এই তালিকা তৈরি করছেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম টুয়ালায় প্রকাশিত তার তালিকায় দাবানলে মৃতের সংখ্যা ২০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গত কয়েক দিনে আলজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১০০টির বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এর বেশির ভাগই এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আলজেরিয়ার প্রেস সার্ভিস জানিয়েছে, রবিবারের আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ১৯টি আগুনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১৮টি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এর আগে শনিবার তেববুন বলেছিলেন, দাবানলের পেছনে নাশকতার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আগুন কিভাবে শুরু হয়েছে এবং এর পেছনে কারো ইচ্ছাকৃত ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রেসিডেন্ট বলেন, আগুনের ভয়াবহতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।
আলজেরিয়ার দণ্ডবিধিতে কিছু গুরুতর অপরাধের জন্য এখনো মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ১৯৯৩ সালের পর দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। বর্তমান আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে বনাঞ্চলে আগুন লাগানোর অপরাধে সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনীতে বনাঞ্চলে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করা ব্যক্তিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে আলজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এতে বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছে।

দাবানল থেকে নিরাপদ রাখতে হাজারো মানুষকে বিভিন্ন এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের সদস্যরা কাজ করছেন। তেববুন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থাগুলো দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দাবানলে মোট কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এর আর্থিক পরিমাণ কত, তা নির্ধারণের জন্য তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

উত্তর আফ্রিকায় তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে সাম্প্রতিক দাবানলগুলো ছড়িয়ে পড়ে। আলজেরিয়া ও প্রতিবেশী তিউনিশিয়া এ অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। আলজেরিয়ায় গ্রীষ্মকালে বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে দাবানলের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension