
মসজিদ নেতাকে বহিষ্কারের রায়
উইসকনসিনের বৃহত্তম মসজিদের প্রেসিডেন্ট সালাহ সারসুরের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আদালতের সিদ্ধান্ত; আপিলের প্রস্তুতি
শাহ্ জে. চৌধুরী:
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম মসজিদ Islamic Society of Milwaukee-এর প্রেসিডেন্ট ও ফিলিস্তিনি-আমেরিকান কমিউনিটি নেতা সালাহ সারসুরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা যেতে পারে বলে রায় দিয়েছেন একজন ইমিগ্রেশন বিচারক।
জাতীয় নিরাপত্তা ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থের কথা উল্লেখ করে পুরোনো একটি অভিবাসন আইনের বিধানের আওতায় সারসুরকে বহিষ্কারযোগ্য বলে রায় দেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা নয়। তার আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সারসুর তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং তিনি দেশটির বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। চলতি বছরের ৩০ মার্চ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিই তাকে আটক করে। ইন্ডিয়ানার একটি কারাগারে ৮১ দিন আটক থাকার পর জুনে ফেডারেল আদালতের নির্দেশে তিনি মুক্তি পান।
পুরোনো মামলাই সরকারের প্রধান যুক্তি
মার্কিন সরকার সারসুরের কৈশোরে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে হওয়া কয়েকটি পুরোনো মামলাকে বহিষ্কারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। সরকারের দাবি, ওই মামলাগুলোর মধ্যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বাড়িতে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ অবৈধভাবে রাখার অভিযোগ-সংক্রান্ত দণ্ড রয়েছে।
সারসুর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, কৈশোরে ইসরায়েলি হেফাজতে নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল। তাদের আরও দাবি, যে নথিতে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, সেটি হিব্রু ভাষায় লেখা ছিল—যে ভাষা তিনি পড়তে বা বুঝতে পারেন না।
সারসুরের যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ফৌজদারি রেকর্ড নেই। একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন আদালত সরকারপক্ষের এই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে যে, তিনি কয়েক দশক আগে গ্রিন কার্ডের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন।
ফিলিস্তিনি অধিকার নিয়ে সরব সারসুর
সারসুর দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি অধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে আসছেন। তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে এবং এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নও জড়িত।
অন্যদিকে, সরকার তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত আইনি ভিত্তির ওপর জোর দিয়েছে। আদালত সরকারের সেই আইনি অবস্থান গ্রহণ করলেও সারসুরের গ্রিন কার্ড আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছে।
“লড়াই চালিয়ে যাব”—সারসুর
রায়ের পর সারসুর সিদ্ধান্তটিকে গভীরভাবে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তার আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সারসুরের মামলা এখন শুধু একজন মসজিদ নেতার অভিবাসন-ভবিষ্যতের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘদিনের স্থায়ী বাসিন্দাদের অভিবাসন অধিকার, জাতীয় নিরাপত্তার আইনি ব্যাখ্যা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তবে সারসুরকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আপিল ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।



