
কুইন্সের J ট্রেনে ছুরিকাঘাতে যাত্রী নিহত
২৫ বছর বয়সী যুবক গ্রেপ্তার; সাবওয়ে নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও উদ্বেগ
হোসনেআরা চৌধুরী :
নিউইয়র্কের কুইন্সে J ট্রেনে ছুরিকাঘাতে ৫৯ বছর বয়সী এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে উডহ্যাভেন বুলেভার্ড স্টেশনের কাছে উত্তরমুখী J ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী Jyrell Thomas-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম Mesias Lojano (৫৯)। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনের ভেতরে Thomas-কে উত্তেজিত অবস্থায় পায়চারি করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি Lojano-র কাছে যান। পরে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ট্রেন থেকে নামার পরও পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকে এবং একপর্যায়ে Thomas একটি রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে Lojano-কে একাধিকবার আঘাত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গুরুতর আহত Lojano-কে দ্রুত Jamaica Hospital Medical Center-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পালিয়ে যাওয়ার সময় যাত্রীদের ধাওয়া
হামলার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। কয়েকজন যাত্রী তাকে অনুসরণ করেন এবং পুলিশকে তার অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করেন। একজন যাত্রী ঘটনার কিছু অংশ ভিডিও করেন।
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত একটি কাছাকাছি ভবনের ছাদে উঠে পড়েন। পরে পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাকে আটক করে।
Thomas-কে প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করা হয়। পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন সাবওয়ের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য নিয়মিত ট্রেন ব্যবহার করেন।
ভোরে কাজে যাওয়া, সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরা কিংবা রাতের শিফট শেষে বাসায় ফেরার সময় অনেক বাংলাদেশি যাত্রী একাই সাবওয়ে ব্যবহার করেন। ফলে ট্রেনের ভেতরে হঠাৎ সহিংসতার এমন ঘটনা তাদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।
বিশেষ করে কুইন্সের বিভিন্ন বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা থেকে J, Z, E, F ও অন্যান্য ট্রেন রুট ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। একটি ট্রেনে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনা তাই শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের খবর নয়; গণপরিবহনে যাত্রীদের নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় এবং সহযাত্রীদের ভূমিকার বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে।
সাবওয়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়ে ব্যবস্থায় এটি ষষ্ঠ হত্যাকাণ্ড। একই সময়ে সাবওয়েতে হামলার ঘটনাও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৪৪১টি হামলার ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪১০টি।
তবে এসব পরিসংখ্যানের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নগর কর্তৃপক্ষের নেওয়া নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক যাত্রী মনে করেন, সাবওয়েতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে যাত্রীদের সচেতনতার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুলিশি উপস্থিতি, দ্রুত জরুরি সেবা এবং সহিংস পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে—সাবওয়েতে কোনো যাত্রী বিপদের মুখে পড়লে কীভাবে নিরাপদে সাহায্য চাওয়া যায়, কোথায় জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা নিজেদের ঝুঁকিতে না ফেলে কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে পারেন।
ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক। অন্যদিকে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এখন আদালতের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে।



