
‘রোহিঙ্গাদের নিজেদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতেই তাদেরকে নিজের দেশে ফিরে যেতে হবে’- জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী
রূপসী বাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে জাতিসংঘের সদর দফতরে জাতিসংঘের হাই কমিশনার ফর রেফুজিস আয়োজিত ‘হাই লেভেল ইভেন্ট অন দ্য গ্লোবাল কম্প্যাক্ট অন রেফুজি’ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। জাতিসংঘের হাই কমিশনার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর মতামত জানাতে আমন্ত্রণ জানান।
উচ্চ পর্যায়ের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব জনাব অ্যান্টোনিও গুটারেস এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে, বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের নিবিড় পূনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাগত জানান।
তিনি তাঁর ভাষণে বলেন, বর্তমানে যে ৬৫ মিলিয়ন মানুষ শরণার্থী হিসাবে বেঁচে আছে, বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের সহযোগিতা করছে।
প্রধানমন্ত্রী শরণার্থী সঙ্কট সমাধানে বিশ্বনেতাদেরকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানান। তিনি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সঙ্কটের পরিধি এবং তার প্রভাবের ওপরও আলোকপাত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দখলদারিত্বর মূল কারণগুলো মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শরণার্থীদের নিরাপদে নিজেদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কট সমাধানের প্রচেষ্টা করতে আহ্বান জানান।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থায়নসহ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিদের আহ্বান জানান।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব করেনঃ
প্রথমত, মায়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আইন, নীতিমালা ও আচরণ বাতিল করতে হবে এবং জোরপূর্বক দখলদারিত্বর মূল কারণগুলো প্রকৃতভাবেই এবং সময়মত প্রকাশ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারকে অবশ্যই আস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, সকল রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে সকল নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য মায়ানমারের অভ্যন্তরেই একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরি করতে হবে।
তৃতীয়ত, বিশেষত জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশের আলোকে মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অপরাধ প্রতিরোধে জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, রোহিঙ্গা সঙ্কট মায়ানমারে উদ্ভূত হয়েছে এবং মায়ানমারেই এর সমাধান পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যে শুধু জীবন বাঁচিয়েছে, তা নয়; সীমান্ত খোলার পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে, আমরা আমাদের সঙ্কট আমাদের সীমান্তের ভেতরেই অঞ্চলেই স্থিতিশীল রেখেছি।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক জীবনে রোহিঙ্গাদের প্রবল প্রভাব সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়া পর্যন্ত ভাসান চর নামক একটি নতুন উন্নত দ্বীপে তাদের স্থানান্তর করা হবে।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশে একীকরণের নীতি নেই এবং রোহিঙ্গাদের নিজেদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতেই তাদেরকে নিজের দেশে ফিরে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ, মানবিক ও উন্নয়ন সংস্থা এবং এনজিও ও ব্যবসায়ি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
-প্রেস বিজ্ঞপ্তি



