
জাতিসংঘে ট্রাম্প-রুহানির বাক বিতণ্ডা
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মঙ্গলবার তুমুল বাক বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। ট্রাম্প বিশ্ব বাণিজ্য থেকে ইরানকে একঘরে করার হুমকি দেন। জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন রুহানি।
সম্প্রতি ইরান ও ৬ জাতির মধ্যে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ঘটনায় দুই দেশের চলমান বৈরীতা নতুন রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার এর রেশ দেখা গেল দুই নেতার বক্তব্যেও।
ইরানের জালে প্রথম গোলটা করেন ট্রাম্পই। জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি ইরান সরকার ব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিপরায়ণ একনায়কতন্ত্র’ উল্লেখ করে বলেন, ইরানের নেতারা বিশৃঙ্খলা, হত্যা ও ধ্বংসের বীজ বপন করছে।
ইরানের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, তারা তাদের প্রতিবেশী ও সীমান্ত এবং জাতির সার্বভৌম অধিকারের প্রতি সম্মান করে না। ইরানের নেতারা দেশের সম্পদ লুটে নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করছে এবং তারা মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য দেশে দাঙ্গাহাঙ্গামা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের জনগণ তাদের নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ। কারণ তারা কোষাগার থেকে কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ করছে এবং জনগণের ধর্মীয় অঙ্গীকার লুট করছে। আর এসব অর্থ দিয়ে প্রক্সি যুদ্ধ পরিচালনা করছে। এটি ভালো নয়।
এসময় ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে হুঁশিয়ার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নভেম্বরের ৫ তারিখের মধ্যে ইরানের শক্তিখাতে দ্বিতীয়বারের মতো নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান খুব বাজে আচরণ করেছে। আমরা ইরানের সঙ্গে খুব ভালো একটি সম্পর্ক গড়ার অপেক্ষায় আছি। কিন্তু সেটি এখন হবে না।’
পরে ভাষণ দিতে উঠে ট্রাম্পের অভিযোগের কড়া জবাব দেন রুহানি। তিনি মার্কিন প্রশাসন তেহরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প প্রশাসন তার সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এই নেতা।
রুহানি বলেন, ‘এটা কঠিন বিষয় যে, মার্কিন সরকার যে সরকারকে উৎখাতে পরিকল্পনা করছে সেই সরকারকেই তারা আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে।’ ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে রুহানি বলেন, এই নেতা বিশ্ব শান্তি ধ্বংস করছেন।
দুই নেতার এই উত্তপ্ত বক্তব্যের পর নিউ ইয়র্কে তাদের বৈঠকের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এদিকে জাতিসংঘ অধিবেশনে রুহানির ভাষণের পর ইরানের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর তিনি বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন জনগণ কিংবা মিত্রদের কোনো রকম ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের ‘জাহান্নামে’ পাঠিয়ে দেয়া হবে’।



