
জাতিসংঘে ভারতীয়দের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লক্ষ্য ছিল বিশ্বের সাফল্যের কাহিনী তুলে ধরা। বিশ্বের বৃহত্তম মঞ্চে ভারতের সাফল্য তুলে ধরলেন বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক।
“ভারতে কোটি কোটি মানুষ বাস করে। সেই দেশের মানুষেরা দারিদ্রতা কাটিয়ে উঠছে। অনেক মানুষ দরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত হয়েছে।” রাষ্ট্র সংঘের সাধারণ সমেলনে এমনই মন্তব্য করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের সাফল্যের বর্ণনা করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত ১০ বছরে নাকি দেশের দারিদ্র্য কমে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের ‘হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স’-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষয় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। ভারত এব্যাপারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে বলেও জানানো হয়েছে।
২০০৬ থেকে ২০১৭, এই ১০ বছরের হিসেবেই সমীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ”২০০৫-০৬ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত মোট ২৭ কোটি দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব হয়েছে। ১০ বছরে অর্ধেক হয়েছে ভারতের দারিদ্র্য। এই রিপোর্ট দেশের জন্য অত্যন্ত আশাজনক।
ভারত ১২৫ কোটির দেশ। ১০ বছর আগেও ৫৫ শতাংশ মানুষ দরিদ্র ছিলেন। এখন সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশে। ভারতকে উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রসংঘের এক আধিকারিক অচিম স্টেনার।

অন্যদিকে, সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ১৩০ নম্বরে রয়েছে ভারত। ১৮৯ টি দেশকে নিয়ে এই রিপোর্ট তৈরি করে হয়েছে। গতবার ভারত ছিল ১২৯-এ। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে একধাপ এগিয়েছে ভারত। এই রিপোর্ট প্রকাশ পাওয়ার পর United Nations Development Programme বা UNDP-র এক কর্তা ফ্রাঙ্কাইন পিকআপ বলেন, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে সামগ্রিক উন্নয়ন হলেও মহিলারা এখনও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাত্রা থেকে বঞ্চিত। প্রয়োজনীয় শিক্ষা বা জীবনযাত্রারও মানেও পিছিয়ে রয়েছে ভারতীয় মহিলারা। তাঁর কথায়, ”কর্মক্ষেত্রে সমতায় আসতে মহিলাদের এখনও ২০০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।”
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ”যে দেশ এতখানি অগ্রগতির নজির গড়েছে, সেই দেশে এখনও বঞ্চনার শিকার মহিলারা। বিশেষ মহিলাদের অগ্রগতি পুরুষের তুলনায় অনেকটাই কম। আর এর মূল কারণ হল শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সুযোগ আজও কম।”
যদিও দারিদ্রসীমার নীচে থাকা মানুষের সংখ্যার বিষয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে রাষ্ট্র সংঘের প্রকাশিত রিপোর্টে। সেখানে বলা হয়েছে যে দারিদ্রসীমার নীচে ধাকা মানুষের মধ্যে অর্ধেকের বয়স ১৮-র নিচে। প্রায় ৩৫টি দেশের সব শিশুদের অর্ধেকই গরিব। এইসব দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাপনের মানে অনেকটাই পিছিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে জল, স্যানিটেশন, পুষ্টি কিংবা প্রাথমিক শিক্ষা থেকেও তাঁরা বঞ্চিত থাকেন।



