
ইমরানের স্বপ্নে জল ঢেলে কুরেশির মুখই দেখলেন না সুষমা
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: মার্কিন মুলুকে সুষমার সঙ্গে বৈঠক হোক পাক বিদেশমন্ত্রী কুরেশির। এমনটাই চেয়েছিলেন ইমরান। কিন্তু পাক প্রধানমন্ত্রীর সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দেয় সীমান্ত সন্ত্রাস। বিএসএফ জওয়ানের নৃশংস হতভার ঘটনায় মুখ ফিরিয়ে নেয় ভারত। বশেষে নিউ ইয়র্কে সেই বৈঠকে গিয়ে একে অপরের দিকে ফিরেও তাকালেন না দুই দেশের বিদেশমন্ত্রী। আক্রমণ শানালেন পুরনো ভঙ্গিতেই।
SAARC-এর সদস্য দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের এক বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল নিউ ইয়র্কে। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন সুষমা স্বরাজ এবং ইমরান সরকারের মন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি।
সেই বৈঠকে গিয়ে সুষমা স্বরাজ বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় সবথেকে বড় আতঙ্কের বিষয় হল সন্ত্রাসবাদ। এর জন্যই এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে।’ নাম না করে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ”আমাদের উচিৎ সব দিক থেকে সন্ত্রাসকে সমূলে বিনাশ করা।”
বৃহস্পতিবারের সেই বৈঠকে মুখোমুখিও হননি দুই বিদেশমন্ত্রী। এমনকী নিজের বক্তব্য শেষে কুরেশির বিবৃতির আগেই সভাস্থল ছাড়েন সুষমা স্বরাজ।
তবে কুরেসিও তাঁর বক্তব্যে নাম না করে ভারতকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি। SAARC-এর উন্নতি ভারতই রুখে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান সুষমা স্বরাজের সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়নি। কুরেশি বলেন, ”ওনার বক্তব্য আমি শুনেছি। উনি আঞ্চলিক সহযোগিতার কথা বললেন। যখন সবাই কথা বলার জন্য প্রস্তুত, তখন কেউ যদি তাতে বাধা দেয়, তাহলে কীভাবে সহযোগিতা সম্ভব?”
গত সপ্তাহেই বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়েছিলেন ইমরান খান। সেই চিঠিতে শান্তিস্থাপনের জন্য আলোচনার ডাক দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইমরানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভারত বৈঠকে সম্মতিও দেয়। চিঠি আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এমন দুটি ঘটনা ঘটে, যাতে সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধভ হয় ভারত। একদিকে তিন পুলিশকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, আর অন্যদিকে কাশ্মীরি জঙ্গিদের আক্রান্ত হিসেবে দেখিয়ে স্ট্যাম্প প্রকাশ করা হয়েছে। এইসব ঘটনাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারত। কোনও বৈঠক হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় বিদেশ মন্ত্রক।



