জীবনশৈলীস্বাস্থ্য

অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির সহজ কিছু প্রাকৃতিক উপায় –

জেসমিন রাশিদ জেসী

 

রূপসী বাংলা ডেস্ক:  আজকাল অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছে না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া বোধ হয় খুব কঠিন। প্রচণ্ড অ্যাসিডিটির সমস্যা তৈরি হয় গ্যাস্ট্রিক গ্ল্যান্ড থেকে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ এর ফল। অ্যাসিডিটির পিছনে মূল যে কারণটি দায়ী থাকে তা হল খালি পেট ও খাদ্য গ্রহণের মাঝে লম্বা সময়ের বিরতি নিলে। এছাড়াও অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবার খাওয়া, চা, কফি বেশি গ্রহণ করলে, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণে, অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণে, মানসিক চাপ, ধূমপান করা ইত্যাদি কারণে। আর এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আমরা বিভিন্ন রকম ওষুধ খেয়ে থাকি। কিন্তু আপনি কি জানেন, এর থেকে পরিত্রাণের খুব সহজ কিছু প্রাকৃতিক উপায় আছে? যাতে ওষুধের মতো কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। তবে আর দেরি না করে আসুন জেনে নেই অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির সহজ কিছু প্রাকৃতিক উপায় –

 

তুলসি পাতা

 

 

তুলসি পাতা: গ্যাস – অম্বলের সমস্যা কমাতে তুলসি পাতা দারুণ কাজে আসে। এতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা খুব অল্প সময়ে অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। খুব দ্রুত উপকার পেতে ৫-৬ টি পাতা পানির সাথে ফুটিয়ে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন।

 

 

 

 

দারুচিনি

 

 

 

দারুচিনি: দারুচিনি হজমের জন্য খুবই ভালো, এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড। যা পেটের গ্যাস দূর করে। এক কাপ পানিতে আধা চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া দিয়ে ফুটিয়ে দিনে দু বার খেতে পারেন।

 

 

 

 

কলা

 

 

 

কলা: কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড। যা অ্যাসিডিটির খুব ভালো কাজ করে। কলা খাওয়ার ফলে আপনার পাকস্থলির অ্যাসিড উৎপাদনের মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসে। এই ফলে থাকা কিছু উপাদান অ্যাসিড থেকে পাকস্থলিকে রক্ষা করে। তাই অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন একটি কলা খান।

 

 

 

 

আদা

 

 

আদা: আদা মুখের লালা বা স্যালাইভা উৎপাদন করে। এই লালা খাবার হজমে সাহায্য করে। অ্যাসিডিটির সময় এক টুকরো আদা মুখে নিয়ে চুষলে বা এক কাপ পানিতে কয়েক টুকরো আদা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে চা খান বা এক চা চামচ আদার রস দিনে দুই থেকে তিন বার খান।

 

 

 

 

লবঙ্গ

 

 

লবঙ্গ: লবঙ্গ হজমে সাহায্য করে এবং অ্যাসিডিটির লক্ষণগুলোর সাথে লড়াই করে। যদি আপনি অ্যাসিডিটির সমস্যায় একটি লবঙ্গ চুষে বা চিবিয়ে খান তবে এই লবঙ্গের রস অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে তাৎক্ষণিক আরাম দেবে। বুকে জ্বলুনি বোধ করলে একটি লবঙ্গ মুখে নিয়ে চিবোতে পারেন।

 

 

 

পুদিনা পাতা

 

 

পুদিনা পাতা: পুদিনা পাতা হজমে সাহায্য করে এবং পাকস্থলিতে অ্যাসিড নিঃসরণ কমায়। এর ঠাণ্ডা অনুভূতি অ্যাসিডিটির কারণে তৈরি জ্বালা কমায়। অ্যাসিডিটির সমস্যা অনুভব করলে কয়েকটি পুদিনা পাতা কুচি করে পানিতে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে খেলে অনেকটাই আরাম পাওয়া যাবে। এই পানীয় বদহজম দূর করতেও সাহায্য করে।

 

 

বাটার মিল্ক

 

 

বাটার মিল্ক: টক দই, পানি ও গোল মরিচের গুঁড়া দিয়ে তৈরি করা এই পানীয়টি অনেকের খুব পছন্দের। বাটার মিল্কে থাকে ল্যাকটিক অ্যাসিড। যা অ্যাসিডিটির ফলে তৈরি হওয়া বুক, পেটের জ্বালা-পোড়া দূর করে। এই পানীয়তে থাকা ক্যালসিয়াম পাকস্থলিতে নতুন করে অ্যাসিড তৈরিতে বাধা দেয়।

 

 

 

অ্যালোভেরা

 

 

 

অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরায় উপস্থিত অ্যাসিড, পাকস্থলিতে উৎপন্ন অ্যাসিডের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে অ্যাসিডিটির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

 

 

 

 

 

জিরা

 

 

জিরা: জিরা মুখের লালা উৎপাদন করে যা হজম প্রক্রিয়া ও বিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করে। এছাড়া অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। পেটের আলসার দূর করতেও কাজ করে জিরা। পেটে যখনই বায়ুর উদ্রেক হবে তখন কয়েকটি জিরা চিবিয়ে খান অথবা পানিতে সেদ্ধ করে পানি সহ জিরা খেয়ে ফেলুন।

 

 

*ঘুমানোর কমপক্ষে দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে খাবার খাওয়া উচিত। ভারী খাবার খাওয়ার সাথে সাথে ঘুমাতে যাওয়া উচিত নয়।

*প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

*খাবার পুরোপুরি চিবিয়ে এবং আস্তে আস্তে খান।

*কার্বোনেটেড পানীয় পান করার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

*পরবর্তীতে আপনি যখনই অ্যাসিডিটির সমস্যায় পরবেন তখন এই পদ্ধতি গুলোর সাহায্য নিতে পারেন। তবে যদি দেখেন দুই থেকে তিন দিন পরও সমস্যা থেকে যাচ্ছে তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension