
সাড়ে ৩ ঘণ্টার সংলাপ নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আর এন শুভ্র
রূপসী বাংলা ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭ দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সাড়ে ৩ ঘণ্টার ঐতিহাসিক সংলাপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে।
সংলাপে বিশেষ কোন সমাধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের মূল উদ্যোক্তা ড. কামাল হোসেন।
০১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় গণভবনে শুরু হওয়া এ সংলাপ শেষ হয় রাত ১০ টা ৪০ মিনিটে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস ও আবদুল মঈন খান। ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সক্রিয় জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন, সাবেক দুই সংসদ সদস্য এস এম আকরাম ও সুলতান মো. মনসুর আহমেদ।
আরও ছিলেন জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মহসিন মন্টু, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, আ ও ম শফিকউল্লাহ এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।
গণভবন থেকে বের হওয়ার পর সংলাপ সম্পর্কে কোন কথা বলতে রাজি হননি নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা মাহমুদর রহমান মান্না। এ সময় তার মুখ কালো থাকতে দেখা গেছে। রাতে ড. কামাল হোসেনের বাসায় যে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে এ বিষয়ে মান্না বলেন, সংবাদ সম্মেলন হবে কিনা জানি না। সেখানে আমি থাকবো না, কারা থাকবে আমি তা জানি না। সংলাপ শেষে বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে বের হয়ে এমন কথা বলেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আর কোন উত্তর দিতে রাজি হননি তিনি।

সংলাপ শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বেইলি রোডে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গণভবনে গিয়েছিলাম। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো আমরা সেখানে ছিলাম। আমাদের নেতারা সবাই বক্তব্য দিয়েছেন। তারা তাদের নানা ধরনের অভিযোগের কথা বলেছেন। সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন। তবে বিশেষ কোনো সমাধান আমরা পাইনি। কেবল সভা-সমাবেশের বিষয়েই তিনি একটি ভালো কথা বলেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সভা সমাবেশে কোথাও কোনো বাধা থাকবে না বলে আমাদের জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ড. কামাল হোসেন বলেন, ৭ দফা দাবির বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি আমাদের কথা শুনেছেন, তবে সুনির্দিষ্টভাবে তিনি কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেন, সংলাপ ভালো হয়েছে, আমরা আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী তার কথা বলেছেন। আমরা তার কথা শুনেছি। পরবর্তীতে আরো আলোচনা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সংলাপের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, খালেদা জিয়ার মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তির বিষয়ে সংলাপে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট কিছু বলেননি। এতে আমরা হতাশ হয়েছি। ফখরুল বলেন, সংলাপের বিষয়ে আমি সন্তুষ্ট নই। তবে আমাদের আলোচনা চলতে পারে। আমরা তফসিলের বিষয়ে কথা বলেছিলাম। তফসিল যাতে সময় নিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তফসিল দেওয়ার বিষয়টি সরকারের নয়। এটি নির্বাচন কমিশন দেখবে। আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।
সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বিষয়ে একটি লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন গণফোরামের এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা সাত দফা দাবি জানিয়েছি। এসব দাবি মানা না মানার এখতিয়ার সরকারের। আমরা মাঠে আন্দোলন অব্যাহত রাখবো। আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি-দাওয়া আদায় করা সম্ভব কি না জানতে চাইলে আবদুর রব বলেন, সব দাবি কি পূরণ হয়? একদিনে কি সব দাবি পূরণ সম্ভব? আমরা আমাদের মতো কর্মসূচি চালিয়ে যাব। নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমাদের বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সভা-সামাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা থাকবে না। এসব সভা-সমাবেশে সহযোগিতা করার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
তথ্য ও ছবি সংগৃহীত।



