বিজয়ের মাসেমুক্তিযুদ্ধ

বিজয়ের দিনলিপি- ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১

যৌথ বাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এবং ১ নম্বর সেক্টর ক্যাপ্টেন মাহফুজ পশ্চিম অঞ্চল থেকে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হয়ে পূর্বাঞ্চলের দিকে এগুতে থাকেন। তারা সম্মুখভাগের পাকিস্তানি শিবিরগুলো এড়িয়ে চলতে থাকেন; পাকিস্তানিদের বিভ্রান্ত করতে তারা ক্যাম্পগুলোর পাশ ঘেঁষে অতিক্রম করেন।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভারতীয় জঙ্গী বিমানগুলো বিভিন্ন পাকিস্তানি সামরিক ঘাটিতে বোমা হামলা করে। ঢাকা ছিল পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর মূল ঘাঁটি। পাকিস্তানিদের বেশিরভাগ যুদ্ধবিমানগুলো ঢাকাতেই ছিল। পিএইচএফের ছিল দুটি স্কোয়াড্রোন জেট, ২৮টি যুদ্ধবিমান, ১৪ টি চাইনিজ মিগ-১৯ এবং আমেরিকার তৈরি ১৪টি স্যাবর এফ-৮৬। ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে, প্রেসিডন্ট ইয়াহিয়া মিগগুলোকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে আদেশ করেন, কিন্তু স্যাবরগুলো তেজগাঁ এয়ারপোর্টেই রয়ে যায়। ওসব স্কোয়াড্রন স্যাবরের প্রায় অর্ধেকই ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রেসিডন্ট ইয়াহিয়া বেতারে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। প্রেসিডন্ট ইয়াহিয়া ভাষণে ভারতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করে বলেন, পাকিস্তান যথেষ্ট সহ্য করেছে। শত্রুকে পাল্টা আঘাত করবার এখনই সময়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘পাকিস্তানের মাটিতে’ ভারতীয় বাহিনীকে শুধু আক্রমণ করবে না বরং ভারতের নিজেদের সীমান্তেও আঘাত করবে। ইয়াহিয়া তার সেনাবাহিনীকে ভারতে অনুপ্রবেশের আদেশ দেন।

একজন সরকারি মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তানের উভয় অংশই সাংঘর্ষিক চাপে রয়েছে।পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তে ভারতের চাপ মোকাবেলা করছে, অন্যদিকে চীন পাকিস্তানকে দৃঢ় সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সৌজন্যে ইংরেজি থেকে অনূদিত- মুখা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension