
স্বাধীনতার পথে- ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১
৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১
কাশ্মীরী দুই তরুণ তাদের হাইজ্যাক করা ভারতীয় ফকার ফ্রেন্ডশিপ বিমানটি বিস্ফোরিত করে উড়িয়ে দেয় এবং পরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। পাকিস্তান এজন্য ভারতের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে।
লাহোর এবং রাওয়ালপিন্ডি থেকে নির্বাচিত পিপলস পার্টির এমএনএ- দের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আওয়ামী লীগের ৬ দফায় পূর্ব পকিস্তানের জনগণের যে সব ন্যায়সঙ্গত দাবি-দাওয়া সন্নিবেশিত হয়েছে পিপলস্ পার্টির ঘোষণাপত্রের আলোকে জাতীয় ঐক্যের কাঠামোতে সেগুলোর প্রতি সর্বাধিক সমর্থন দেওয়া হবে। সাত ঘণ্টা স্থায়ী ওই বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন সদস্য ছাড়াও লাহোর, শাহিওয়াল ও মূলতানের কয়েকজন এমএনএ যোগদান করেন।
পাঞ্জাব কাউন্সিল মুসলিম লীগের সভাপতি সরদার শওকত হায়াত খান ঢাকায় আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দুই ঘণ্টা ব্যাপী আলোচনা শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, তাঁর দল জাতীয় সংহতি, ঐক্য ও আদর্শের খাতিরে শাসনতান্ত্রিক বিষয়ে যে কোনরকম আঞ্চলিক চুক্তি এড়িয়ে চলবেন। তিনি আরও বলেন, ৬ দফায় পাঞ্জাব বেশি লাভবান হবে। তিনি শাসনতন্ত্র প্রণয়নে আওয়ামী লীগ প্রধানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার কথাও বলেন।
দিল্লীতে পাকিস্তানি হাই কমিশনার সাজ্জাদ হায়দার এবং আরও কয়েকজন পাকিস্তানি কর্মকর্তার প্রাণনাশের হুমকিতে পাকিস্তান সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তান সরকার ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনারকে ডেকে তাদের উদ্বেগ সম্পর্কে অবহিত করেন।
লাহোরে মিয়া আরিফ ইফতিখারের বাসভবনে জুলফিকার আলী ভুট্টোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের নববির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের এক সভা শেষে পিপলস্ পার্টির জনৈক মুখপাত্র সাংবাদিকদের কাছে বলেন, আওয়ামী লীগের ছয় দফা দেশের জন্য একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়নের পক্ষে বিঘ্ন স্বরূপ। আওয়ামী লীগের ছয় দফা দেশকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।



