
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের যত আজব রীতি
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রেক্সিট বিতর্কের কারণে বিশ্বের অনেক কৌতুহলী মানুষের নজর এখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের দিকে। লন্ডনে টেমস নদীর তীরের বিশ্ববিখ্যাত ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদে বসে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। এটি হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন পার্লামেন্ট। কিন্তু এর এমন কিছু রীতিনীতি আছে – যা বাইরের লোকের চোখে একেবারেই আজব বলে মনে হবে। কিন্তু ব্রিটিশরা এসব অদ্ভূত নিয়মকানুনকেই ভীষণ গুরুত্বের সাথে মেনে চলেন। এই পার্লামেন্টের কিছু মজার তথ্য।
১. স্পিকারকে টেনে নিয়ে যাওয়া
‘আমি স্পিকার হব আমাকে টেনে নিয়ে যান। টানুন টানুন।’ নির্বাচিত হওয়ার পর এমনটাই ভান করেন স্পিকার যেন তাকে জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঘটনা কিন্তু সত্যি। পার্লামেন্ট স্পিকার নির্বাচিত হবার পর তাকে টেনে নিয়ে গিয়ে তার চেয়ারে বসিয়ে দেয়া হয়।
শুধ তাই নয়, ব্রিটেনের ইতিহাসে সাতজন স্পিকারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। রাজা অষ্টম হেনরি একাই শিরশ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনজন স্পিকারকে। তাই মজা করে বলা হয়, ব্রিটেনে স্পিকার হওয়াটা অত মজার চাকরি নয়, যখন তখন প্রাণ চলে যেতে পারে!
২. দয়া করে যুদ্ধ করবেন না
এখানে সরকার আর বিরোধী দল মুখোমুখি বেঞ্চে বসেন। পার্লামেন্ট কক্ষের মেঝেতে দুটি লাল রেখা আছে, যার মাঝখানের দূরত্ব দুটি তলোয়ারের দৈর্ঘ্যের সমান। পার্লামেন্টে এমপিরা প্রায়ই আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। আর ব্রেক্সিট হলে তো কথাই নেই।

হাউস অব কমন্স
৩. দুঃখিত মহারাণী
বৃটিশ গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছে রাজতন্ত্র আর পার্লামেন্টর দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়ে। এই পার্লামেন্টর নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্স। ব্রিটেনের রাজা বা রানী এখানে পদার্পণ করেন না। ১৬৪২ সালে শেষবারের মত এখানে ঢুকেছিলেন রাজা প্রথম চার্লস। আর তিনি এসেছিলেন পাঁচজন এমপিকে গ্রেপ্তার করতে। তবে প্রতিবছর রানি উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে আসেন ভাষণ দিতে। তখন এমপিরা রানির কর্মকর্তাদের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেন। আর এটা হচ্ছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্বাধীনতার প্রতীক।
৪. নাম ধরে ডাকা চলবে না
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অধিবেশন চলাকালে সদস্যদের নাম ধরে ডাকা নিষেধ। একজন এমপি অন্যজকে ‘মাননীয় সদস্য’ বলেই সম্বোধন করে থাকেন। কেবল স্পিকার সংসদ সদস্যদের নাম ধরে ডাকতে পারেন।
৫. হাততালি নিষিদ্ধ
ব্রিটেনে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে পার্লামেন্ট অধিবশন চলে। অধিবেশন চলাকালে কোনোরকম হাতকালি দেয়া কিংবা ছবি তোলা ও ভিডিও করা নিষিদ্ধ। ১৯৮৯ সাল থেকে পার্লামেন্টের ফটো তোলা বা অডিও করার অনুমতি মিললেও এখনও নিষিদ্ধ আছে ভিডিও।
৬. পশুর চামড়ায় আইন
ব্রিটিশ গণতন্ত্রকে একসঙ্গে বেঁধে রেখেছে যে নিয়মগুলো এটি তার একটি। এখানে আইনের অনুলিপি সংরক্ষণ করা হয় পশুর চামড়া দিয়ে, যার নাম ‘ভেলাম’। এর আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে পাঁচশ’বছরের বেশি সময় ধরে তৈরি অসংখ্য আইন। তবে সম্প্রতি একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। ‘ভেলাম’ তৈরিতে খরচ বেশি হওয়ায় আইন লিপিবদ্ধ করতে পুরনো কাগজের ব্যবহার শুরু হয়েছে।
৭. পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে দেড় লাখ ডলার
গত বছর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট খরচ করা হয়েছিলো দেড় লাখ ডলার। এছাড়াও পার্লামেন্ট ভবনের আর একটি বড় সমস্যা হচ্ছে ইঁদুর। বিশ্বখ্যাত এ ভবনটি এখন সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ইঁদুরের সমস্যার মোকাবেলাও তালিকায় অগ্রাধিকার পেয়েছে। ভবনটি সংস্কারে সবমিলিয়ে খরচ হবে আণুমানিক ৪৬০ কোটি ডলার। আর এই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হবে গণতন্ত্রের এই বিচিত্র সব ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার জন্য।
হাউস অব লর্ডস
সূত্র: বিবিসি



