
বিরাটদের কাছে ইন্দোরে ইনিংসে হার বাংলাদেশের
রূপসী বাংলা স্পোর্টস ডেস্ক: ঐতিহাসিক দিন-রাতের টেস্টে ক্রিকেটের নন্দনকাননে পা-রাখের আগেই বিরাটদের কাছে ইনিংসে হারল বাংলাদেশ৷ মাত্র তিন দিনেই ইন্দোর টেস্ট জিতে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ এগিয়ে গেল ভারত৷ বেঙ্গল টাইগারদের ইনিংস ও ১৩০ রানে হারায় কোহলি অ্যান্ড কোং৷ ফলে টানা ছ’টি টেস্ট জিতল ভারত৷ আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখনও পর্যন্ত কোনও টেস্ট হারেনি বিরাটবাহিনী৷ ইডেন গার্ডেন্সে ঐতিহাসিক দিন-রাতের টেস্ট শুরু শুক্রবার থেকে৷ এটাই ভারতের মাটিতে প্রথম ডে-নাইট টেস্ট৷
হোলকর স্টেডিয়ামে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে লড়াই চালালেও শেষরক্ষা হয়নি৷ প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয় অব্যাবত মোমিনুল হকদের৷ ৩৪৩ রানে পিছিয়ে থেকে ২১৩ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস৷ একমাত্র হাফ-সেঞ্চুরি রহিমের৷ ৬৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে অশ্বিনের শিকার তিনি৷ পূজারার দুরন্ত ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রহিম৷ ভারতের সফলতম বোলার শামি৷ ৩১ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন বাংলার এই ডানহাতি পেসার৷ তিনটি উইকেট নিয়েছেন অশ্বিন এবং দু’টি উইকেট পেয়েছেন উমেশ যাদব৷
শনিবার সকালে অবশ্য ব্যাট করতে নামেনি ভারত৷ শুক্রবারের ছ’ উইকেটে ৪৯৩ রানের স্কোরেই প্রথম ইনিংসে ডিক্লেয়ার্ড দেয় টিম ইন্ডিয়া। ৩৪৩ রানের লিড নিয়ে এদিন সকালে বাইশ গজের কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে নতুন বলে আক্রমণ শুরু করেন ভারতীয় পেসাররা ইশান্ত ও উমেশ দু’জনেই শুরুতে গতি, সুইং, বাউন্সে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেললেন। তারপর শামির সুইং ও গতিতে বাংলাদেশের মিডল-অর্ডারে ধস নামে৷
দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায় বংলাদেশ৷ ‘কিং পেয়ার অব সিক্স’ করে দুই ওপেনারই প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটা লাগান৷ দুই ওপেনারের স্টাম্প ছিটকে দেন ভারতীয় পেসাররা৷ ইমরুল কায়েসকে (৬) অসাধারণ ডেলিভারিতে বোল্ড করেন উমেশ যাদব। পরের ওভারেই শাদমান ইসলামকে (৬) বোল্ড করেন ইশান্ত শর্মা। মাত্র ১৬ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ৷ এরপর ভয়ংকর হয়ে ওঠেন মহম্মদ শামি৷ অধিনায়ক মোমিনুল হককে (৭) এলবিডব্লিউ করেন শামি। আম্পায়ার নট-আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে উইকেট তুলে নেয় ভারত। পরের উইকেটটিও তুলে নেন শামি৷ মাত্র ৪৪ রানে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ৷ শামির বাউন্সারে মারতে গিয়ে মিড-উইকেটে ময়াঙ্ক আগরওয়ালকে সহজ ক্যাচ দেন মহম্মদ মিঠুন (১৮)। লাঞ্চে ৬০ রানে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ৷
রহিম ও মাহমুদুল্লাহ লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও পঞ্চম উইকেটে মাত্র ২৮ রান যোগ করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ৷ ব্যক্তিগত ১৫ রানে শামির বলে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মাহমুদুল্লাহ৷ ৭২ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে থাকে বেঙ্গল টাইগাররা৷ তবে এখান থেকে লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে মরিয়া লড়াই করেন রহিম৷ ষষ্ঠ উইকেট দু’জনে ৬৮ রান যোগ করার পর ব্যক্তিগত ৩৫ রানে লিটলকে ‘কট অ্যান্ড বোল্ড’ করে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখান রবিচন্দ্রন অশ্বিন৷ সপ্তম উইকেটে মেহেদির সঙ্গে ৫৯ রান যোগ করেন রহিম৷ চা-বিরতির আগেই টেস্ট কেরিয়ারে এদিন তাঁর ২০ নম্বর হাফ-সেঞ্চুরিটিি করেন রহিম৷ কিন্তু চা-বিরতির পর বাংলাদেশ ইনিংসের লেজ দ্রুত গুটিয়ে দেন ভারতীয় বোলাররা৷
প্রথম ইনিংস বাংলাদেশ দেড়শো রানে গুটিয়ে গেলে ময়াঙ্ক আগরওয়ালের দুরন্ত ডাবল সেঞ্চুরি এবং অজিঙ্ক রাহানে, চেতেশ্বর পূজারা ও রবীন্দ্র জাদেজার হাফ-সেঞ্চুরিতে পাঁচশোর দৌড়গোরায় পৌঁছে যায় ভারত৷ যদিও বিরাট কোহালি, রোহিত শর্মা রান পাননি। ময়াঙ্ক ২৪৩, রাহানে ৮৬, জাদেজা ৬০ এবং পূজারা৫৪ রান করেন। শুক্রবার সারা দিনে ৪০৭ রান তোলে ভারত। ম্যাচের সেরা ডাবল সেঞ্চুরিকারী ময়াঙ্ক আগরওয়াল৷ টানা দু’টি সিরিজে ডাবল সেঞ্চুরি পেলেন টিম ইন্ডিয়ার এই ডানহাতি ওপেনার৷



