
আঞ্চলিকপ্রধান খবরবাংলাদেশ
বাংলাদেশে চার জনপ্রতিনিধি এলাকা ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে
কারোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত পুরো পৃথিবী। বিপর্যস্ত বাংলাদেশও। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাংলাদেশও রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। এ অবস্থায় অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি অনেকেই এলাকা ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরের ৪টি সংসদীয় এলাকায় চারজন সংসদ সদস্য (এমপি) থাকলেও তারা এ সংকটময় সময়ে এলাকা নেই। তবে অনুসারীদের মাধ্যমে খোঁজখবরের পাশাপাশি তারা নামমাত্র সাহায্য-সহায়তা করছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে জেলার ৫৮টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ১৮ জন চেয়ারম্যান করোনা সচেতনতায় শুরু থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন।
পাশাপাশি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পাঁচটি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, চারটি পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলদের অধিকাংশ গাছাড়া ভাব নিয়ে দায়িত্বপালন করছেন।
জনপ্রতিনিধিরা প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন এবং আওয়ামী জোটের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
অথচ জনগণের সুখ-দুঃখে একসঙ্গে থাকা এবং কাজ করার অঙ্গীকার দিয়ে তারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তখন আরও নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও ওসবের কোনও বাস্তবায়ন নেই।
তবে সদরের উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু ও রায়পুরের ভাইস চেয়ারম্যান এ বি এম মারুফ বিনা জাকারিয়া করোনা থেকে জনগণকে রক্ষা করতে এক সপ্তাহ ধরে হাট-বাজার, মাঠ-ঘাট, বাসা-বাড়িতে প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন।
তারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়দের বাড়িতে চাল, ডাল, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩-৪ দিন ধরে জেলা সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় কারোনার কারণে অঘোষিত লকডাউন চলছে।
মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বাংলাদেশে করোনা দেখা দেওয়ার পর লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের এমপি আনোয়ার হোসেন খান, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের এমপি আবদুল মান্নান এলাকায় আসেন নি।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে গত মাসের মাঝামাঝিতে মানবপাচারসহ দুর্নীতির অভিযোগে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
তখন তিনি ঢাকায় থাকলে কিছুদিন পর কুয়েত চলে যান। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে নেই। তবে কোন্ দেশে অবস্থান করছেন তা নিশ্চিত করতে পারছেন না তার অনুসারীরাও।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি এ কে এম শাহজাহান কামাল ৮-১০ আগে জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে জেলা শহরে করোনায় সচেতনতামূলক কিছু লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ করেছেন। এরপর তিনি ঢাকায় গেলেও এলাকায় আর আসেন নি।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, করোনার কারণে প্রতিটি ইউনিয়নে এক টন করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
এ সময় ১০ হাজার টাকা করে প্রত্যেক ইউনিয়নে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ওই চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে করোনায় শনিবার পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ জন। এর মধ্যে ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ♦



